দরিদ্র শনাক্তে দুই প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ২,০১০ কোটি

বাংলাদেশে দরিদ্র পরিবার শনাক্ত এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপকারভোগী বাছাইয়ের জন্য দুটি সরকারি প্রকল্পে প্রায় ২,০১০ কোটি টাকার ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে। এর মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে ব্যয় ১,৭৯৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ২,৬৯৯ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। অর্থ বিভাগের পৃথক ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২১৬ কোটি টাকা।
হিসাব দুটির প্রকৃতি এক নয়: ১,৭৯৪ কোটি টাকা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, প্রকল্পটির পুরো ব্যয় নয়। দুই অঙ্ক যোগ করে ২,০১০ কোটি বলা হলেও, তা একই ধরনের নতুন ব্যয় বা কেবল দরিদ্র শনাক্তের খরচ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘Strengthening Social Protection for Improved Resilience, Inclusion and Targeting’ (SSPIRIT) প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে ২,৬৯৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা হয়েছে বলে আগামীর সময়ের ১৬ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানানো হয়। সংশোধিত প্রকল্পে সরকার ১,৫১৪ কোটি ১১ লাখ এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১,১৮৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্পে ১ কোটি ৩৫ লাখ সুবিধাভোগীকে চারটি নির্বাচিত ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের নথি-ভিত্তিক প্রতিবেদনে তথ্য সংগ্রহকারীদের জন্য ৮২১ কোটি ৯০ লাখ, ফ্যামিলি স্মার্ট কার্ড তৈরির সরঞ্জামে ৫৫০ কোটি, ১৮টি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৮৮ কোটি ৮৪ লাখ এবং ব্যক্তি পরামর্শকদের জন্য ৪০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের প্রস্তাবিত ‘Social Protection Digital Transformation and Coordination’ প্রকল্পের লক্ষ্য ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি তৈরি ও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা তথ্যব্যবস্থার সমন্বয়। পরিকল্পনা কমিশন-সূত্রের বরাতে আগামীর সময়ের আরেক প্রতিবেদনে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৬৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাবের কথা এসেছে; অন্য একটি প্রতিবেদনে মোট ব্যয় ২১৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বেশি বলা হয়েছে। এই প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও সংশোধিত অঙ্কের সরকারি নথি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
দুটি উদ্যোগের পেছনে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের দরিদ্র পরিবারের অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায়নি; একই সময়ে সবচেয়ে ধনী পরিবারের ৩৫ শতাংশ সুবিধা পেয়েছে।
তবে তথ্যভান্ডার তৈরির আগের উদ্যোগের অভিজ্ঞতাও আলোচনায় এসেছে। প্রথম আলো জানিয়েছে, জাতীয় খানাভিত্তিক তথ্যভান্ডার (NHD) প্রকল্পে ৬৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তথ্য ব্যবহার বা হালনাগাদ হয়নি; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (IMED) ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে প্রকল্পটি তার উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়। নতুন প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ কীভাবে পুরোনো তথ্যের সঙ্গে সমন্বিত হবে, সে প্রশ্নও রয়ে গেছে।
#দরিদ্রশনাক্তকরণ #সামাজিকসুরক্ষা #ফ্যামিলিকার্ড #বাংলাদেশ #DynamicSocialRegistry #SSPIRIT




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।