এশিয়ায় বারুদের গন্ধ: চীনের সামরিক মহড়া ও ভূ-রাজনৈতিক সতর্কতা

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার লড়াইয়ে যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। তাইওয়ান প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-এর ক্রমবর্ধমান সামরিক মহড়া ও শক্তি প্রদর্শন পুরো অঞ্চলে তীব্র সতর্কতার (High Alert) জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বেইজিংয়ের ‘জাস্টিস মিশন’ ও অন্যান্য বড় আকারের নৌ-বিমান মহড়ার প্রতিক্রিয়ায় এশিয়ার মিত্র দেশগুলো একজোট হয়ে পাল্টা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে, যা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে চরম উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
চীন তাইওয়ানকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করার একাধিক মহড়া পরিচালনা করার পর স্বশাসিত এই দ্বীপটি তাদের সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা জারি করেছে। জবাবে গত ৯ জুন (২০২৬) তাইওয়ান তার পশ্চিম উপকূলে গত ৭ বছরের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের লাইভ-ফায়ার উপকূলীয় প্রতিরক্ষা মহড়া পরিচালনা করেছে। তাইচং অঞ্চলের ২০ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে এই মহড়ায় তারা সম্পূর্ণ যুদ্ধের আদলে তৈরি দেশীয় 'থান্ডারবোল্ট-২০০০' রকেট সিস্টেম এবং মার্কিন 'প্যালাডিন' হাউইটজার ব্যবহার করে সম্ভাব্য চীনা আগ্রাসন রুখে দেওয়ার অনুশীলন করেছে। এদিকে, চীনও তাইওয়ান সীমান্তের ফ্রন্টলাইন ট্রুপসকে শক্তিশালী করতে মার্কিন প্যাট্রিয়টের সমকক্ষ অত্যাধুনিক 'এইচকিউ-১৬এফ' (HQ-16F) ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করেছে।
চীনের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে প্রতিহত করতে ওয়াশিংটন এবং ম্যানিলা তাদের বার্ষিক বালিকাতান ২০২৬’ (Balikatan 2026) সামরিক মহড়াকে নজিরবিহীনভাবে বড় করেছে। লুজন দ্বীপ এবং দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় আয়োজিত এই ১৯ দিনের মহড়ায় এবার কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন নয়, বরং জাপান, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিগুলোও যোগ দিয়েছে। মার্কিন টমাহক এবং ফিলিপাইনের ব্রাহমোস ক্ষেপণাস্ত্রের এই যৌথ প্রদর্শনীর জবাবে চীনও লুজনের পূর্বে তাদের বিখ্যাত 'লিয়াওনিং' এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়ে জলসীমা উত্তপ্ত করে তুলেছে।
চীনের এই বেপরোয়া সামরিক কৌশলে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন টোকিও এবং ক্যানবেরা। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি সরাসরি জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত, তাই পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংকটে রূপ নিলে তারা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। অন্যদিকে, বেইজিং একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে "বাহ্যিক শক্তির অযাচিত হস্তক্ষেপ" এবং "আগুন নিয়ে খেলা" হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সামুদ্রিক রুটগুলোতে একের পর এক যুদ্ধজাহাজের মহড়া এশিয়াকে এক অদৃশ্য কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় সংঘাতের রূপ নিতে পারে।




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।