শিশুদের খাবারের অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে ফাহাদ নুরকে ধরতে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার

ফেডারেল শিশু-পুষ্টি কর্মসূচির অর্থের মধ্যে ৫০ লাখ ডলারের বেশি পাওয়ার অভিযোগে মিনেসোটার ব্যবসায়ী ফাহাদ মোহামেদ নুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তার ও দণ্ডাদেশে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে এফবিআই।
পূর্ণ প্রতিবেদন
মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) মিনেসোটার শিশু-পুষ্টি কর্মসূচির অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে পলাতক ফাহাদ মোহামেদ নুরকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস’ তালিকায় নুরের নাম রয়েছে। এফবিআই বলছে, তাঁর সোমালিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এবং তিনি সেখানে থাকতে পারেন—তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত নয়।
ছবিতে শেয়ার করা পোস্টটি ১৫ সেপ্টেম্বরের বলে উল্লেখ করা হলেও, এফবিআইয়ের তালিকাভুক্তির খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ৮ জুলাই ২০২৬। পুরস্কারের অঙ্কটি “সর্বোচ্চ” ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার; তথ্যের বিনিময়ে এই অর্থ নিশ্চিতভাবে দেওয়া হবে—এমন নয়। এফবিআইয়ের ঘোষণায় পুরস্কারটি নুরকে গ্রেপ্তার ও দণ্ডিত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য।
অভিযোগটি শিশুখাদ্য চুরির নয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবির শিরোনামে শিশুদের খাবারের অর্থ আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে। তবে মামলাটি শিশুখাদ্য বা শিশুর ফর্মুলা চুরির নয়। অভিযোগটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল চাইল্ড নিউট্রিশন প্রোগ্রামের আওতায় শিশুদের খাবার পরিবেশনের জন্য দেওয়া অর্থ নিয়ে।
এফবিআইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, নুর ‘দ্য প্রোডিউস এলএলসি’ নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। তিনি খাবার সরবরাহের ভুয়া চালান জমা দিয়ে এমন খাবারের জন্য সরকারি অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ। এফবিআই বলছে, তাঁর প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি থেকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছিল।
মিনেসোটার জন্য ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ঘোষিত অভিযোগপত্রেও নুরকে ‘দ্য প্রোডিউস’-এর প্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি (wire fraud), অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের খাবার সরবরাহের দাবি করে কর্মসূচির অর্থ পেয়েছিল। তবে অভিযোগ আনা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।
বৃহত্তর ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ তদন্ত
নুরের মামলা মিনেসোটার ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ জালিয়াতি তদন্তের অংশ। ২০২২ সালে বিচার বিভাগ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার সময় বলেছিল, মহামারির সময় শিশুদের খাবার দেওয়ার কর্মসূচিতে ভুয়া দাবি, চালান ও নথি ব্যবহার করে ২৫ কোটির বেশি ডলার নেওয়া হয়েছে বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভুয়া খাবার বিতরণের হিসাব দেখানো এবং অর্থের উৎস আড়াল করার অভিযোগও আনা হয়।
এই কর্মসূচির অর্থ ছিল শিশুদের খাবার পরিবেশনের ব্যয় ফেরত দেওয়ার জন্য। মহামারির সময় স্কুল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক খাবার বিতরণ ব্যাহত হওয়ায় শিশুদের কাছে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা সহজ করতে কর্মসূচির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, সেই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে কিছু অংশগ্রহণকারী খাবার পরিবেশনের ভুয়া হিসাব জমা দেয়।
বৃহত্তর মামলায় ইতিমধ্যে কয়েক ডজন আসামির দোষ স্বীকার বা দণ্ডাদেশের খবর এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’-এর সাবেক প্রধান অ্যাইমি বককে প্রায় ৪২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই মামলার রায় বা অন্য আসামিদের দোষ স্বীকার নুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিষ্পত্তি নয়; তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নুরের বিরুদ্ধে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে মিনেসোটা জেলার ফেডারেল আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সংস্থাটি তাঁর বিষয়ে তথ্য থাকলে ১-৮০০-CALL-FBI নম্বরে ফোন, স্থানীয় এফবিআই কার্যালয় বা tips.fbi.gov-এ যোগাযোগ করতে বলেছে।
যা জানা গেছে / যা এখনো স্পষ্ট নয়
যা জানা গেছে: এফবিআই নুরকে শিশু-পুষ্টি কর্মসূচির অর্থ জালিয়াতির অভিযোগে খুঁজছে; তাঁর বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি ও অর্থ পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে; গ্রেপ্তার ও দণ্ডাদেশে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
যা এখনো স্পষ্ট নয়: নুর বর্তমানে কোথায় আছেন, তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন কি না, এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার কবে বা কীভাবে এগোবে—এসব বিষয়ে প্রকাশ্য, নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এফবিআই বলছে, তিনি সোমালিয়ায় থাকতে পারেন; এটি সংস্থার ধারণা, নিশ্চিত অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য নয়।
সূত্র ও যাচাই-নোট
এফবিআইয়ের বর্তমান ওয়ান্টেড পৃষ্ঠা, মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২২ সালের অভিযোগ ঘোষণার নথি এবং মিনেসোটার FOX 9-এর প্রতিবেদন মিলিয়ে পুরস্কারের পরিমাণ, অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তালিকাভুক্তির সময় যাচাই করা হয়েছে। ছবির পোস্টে থাকা “শিশুদের খাবার” কথাটি প্রেক্ষাপটসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে: অভিযোগটি শিশুখাদ্য চুরির নয়, শিশুদের খাবার পরিবেশনের জন্য নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচির অর্থ নিয়ে। তথ্য যাচাই করা হয়েছে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। নুরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এই সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।
সরাসরি সূত্র
প্রাথমিক সূত্র
স্বাধীন সংবাদসূত্র
#FBI #মিনেসোটা #ফিডিংআওয়ারফিউচার #শিশুপুষ্টি #যুক্তরাষ্ট্র #জালিয়াতি #বাংলাদেশিসংবাদ




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।