গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর বহাল হাইকোর্টে

পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা প্রায় ৬৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার আয়কর বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
পূর্ণ সংবাদ প্রতিবেদন
ঢাকা—গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে পাঁচ করবর্ষের প্রায় ৬৬৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা আয়কর আদায়ের পথ খুলে দিয়েছেন হাইকোর্ট। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর পুনর্নির্ধারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির দায়ের করা দুটি রিটের রুল বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর খারিজ করেছেন আদালত।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুস সামাদ আজাদ এবং গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন শুনানি করেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দ্য ডেইলি স্টার রায়ের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের হিসাবে, ২০১২–১৩ থেকে ২০১৬–১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা দাবি করেছে এনবিআর। আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় ও প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়ার পর সংস্থাটি কর পরিশোধের জন্য ডিমান্ড নোটিশ দিতে পারবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।
তবে কত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে হবে কিংবা আদায় কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু করা যাবে কি না—সংক্ষিপ্ত রায়ে তা স্পষ্ট হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের দ্বারস্থ হওয়া হবে। আপিল বিভাগ রায় স্থগিত করলে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনবিআরের দাবি করা অর্থ পরিশোধ করতে হবে না বলে তাঁর ভাষ্য।
বিরোধের সূত্রপাত
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আয়কর অধ্যাদেশের ১২০ ধারায় গ্রামীণ কল্যাণের সংশ্লিষ্ট কর নথি পুনরায় খুলে নিরূপিত আয়ের ওপর ৩৫ শতাংশ হারে কর ধার্য করা হয়।
করবর্ষভিত্তিক হিসাবে এনবিআরের দাবি—
২০১২–১৩: ১৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৬ টাকা
২০১৩–১৪: ১৩২ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ১২ টাকা
২০১৪–১৫: ১১৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৪ টাকা
২০১৫–১৬: ১১৫ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকা
২০১৬–১৭: ১১৫ কোটি ৬৩ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা
গ্রামীণ কল্যাণের বক্তব্য, ২০০৪ সালে গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে করা একটি বিনিয়োগ চুক্তির অধীনে পাওয়া অর্থের ওপর উৎসে কর কাটা হয়েছিল। বিপরীতে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অবস্থান, গ্রামীণ কল্যাণের নামে প্রয়োজনীয় চালান উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির পুনর্বিবেচনার আবেদন ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর খারিজ হওয়ার পর ওই আদেশ এবং পরবর্তী সংশোধনী আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দুটি রিট করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম মামলার আর্থিক হিসাব ও বিরোধের এই পটভূমি প্রকাশ করেছে।
রিট দুটি নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ একটি রায় দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি আইনজীবী থাকাকালে মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ কারণে তিনি রায় লেখায় বিব্রতবোধ করেন বলে তখন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানিয়েছিলেন। পরে প্রধান বিচারপতি মামলাটি নতুন বেঞ্চে পাঠান।
করের দায় প্রতিষ্ঠানটির, ইউনূসের ব্যক্তিগত নয়
গ্রামীণ কল্যাণ নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তবে মামলার পক্ষ এবং কর দাবির আইনগত লক্ষ্য গ্রামীণ কল্যাণ—অধ্যাপক ইউনূস ব্যক্তিগতভাবে নন।
অতএব, “ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে”—এভাবে শিরোনাম দেওয়া আইনগতভাবে বিভ্রান্তিকর। তাঁর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক ইউনূস ২০২৪ সালের পর থেকে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের পদে নেই। বর্তমান রায়ও গ্রামীণ কল্যাণের রিট ও প্রতিষ্ঠানটির করদায়সংক্রান্ত।
যা জানা গেছে
হাইকোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের দুটি রিটের রুল খারিজ করেছেন।
এনবিআরের দাবির সুনির্দিষ্ট অঙ্ক ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা।
দাবিটি ২০১২–১৩ থেকে ২০১৬–১৭—পাঁচ করবর্ষের।
প্রতিষ্ঠানটি আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
করদাবিটি গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে; মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত করদায় নয়।
যা এখনো স্পষ্ট নয়
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালতের বিস্তারিত আইনি পর্যবেক্ষণ কী।
কর পরিশোধের চূড়ান্ত সময়সীমা কত হবে।
আপিল বিভাগে আবেদন কবে করা হবে এবং রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হবে কি না।
উৎস ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০টা ৩৫ মিনিট বাংলাদেশ সময় পর্যন্ত বাসস, দ্য ডেইলি স্টার ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদন মিলিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় তখনো প্রকাশিত না হওয়ায় আদালতের বিস্তারিত যুক্তি এবং অর্থ পরিশোধের সময়সীমা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সরাসরি উৎস
Bangladesh Sangbad Sangstha: Grameen Kalyan has to pay Tk 666 crore in tax—HC
The Daily Star: Grameen Kalyan will have to pay Tk 666cr tax—HC
bdnews24.com: রুল খারিজ, ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে গ্রামীণ কল্যাণকে
The Daily Star: Earlier verdict over tax reassessment withdrawn
#গ্রামীণকল্যাণ #করমামলা #হাইকোর্ট #এনবিআর #মুহাম্মদইউনূস #BangladeshNews #GrameenKalyan




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।