রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন সমীকরণ

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া (https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B6-%E0%A6%87%E0%A6%89%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%AF%E0%A6%BC_%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7)রাশিয়া-ইউক্রেন পূর্ণমাত্রার সংঘাত ইতিমধ্যে চার বছর পূর্ণ করে আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। যা শুরুতে কয়েক সপ্তাহের সামরিক অভিযান মনে করা হয়েছিল, সময়ের বিবর্তনে তা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের মাটিতে দীর্ঘতম ও সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি এসে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং ফ্রন্টলাইনের লড়াই এবং দূরপাল্লার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দুই পক্ষেই নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত ও দনবাসের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ধীরগতির কিন্তু ব্যয়বহুল অগ্রগতি বজায় রেখেছে। ক্রেমলিন এখন ইউক্রেনের জ্বালানি ও রেলওয়েসহ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে নিরবচ্ছিন্ন ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। অন্যদিকে, পশ্চিমা উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় (https://www.youtube.com/watch?v=gaLaKV7QCas)ইউক্রেনীয় বাহিনীও পাল্টা কৌশল নিয়েছে। তারা রাশিয়ার অভ্যন্তরে অস্ত্র কারখানা এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ায় রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য ব্যাপক আক্রমণ পরিচালনা করছে।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে দুই পক্ষের লাখো সেনা এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইউক্রেনের কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছেন। সমান্তরালে তীব্র মূল্যস্ফীতি, নজিরবিহীন বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিশাল যুদ্ধব্যয়ের নেতিবাচক প্রভাব টের পাচ্ছে খোদ রাশিয়ার সাধারণ জনগণও। কিয়েভের বাসিন্দারা অনবরত রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, আর মস্কোর অর্থনীতিও দীর্ঘমেয়াদি মন্দার মুখে পড়েছে।
ইউক্রেন কোনো অবস্থাতেই নিজের ভূখণ্ড ছেড়ে আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়, আর রাশিয়াও জয়ের কোনো স্পষ্ট তাত্ত্বিক সমাধান না পেয়ে যুদ্ধ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে একাধিকবার মার্কিন ও ইউরোপীয় মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করা হলেও আলোচনা কেবল টেবিল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি কোনো পক্ষই বড় কোনো ছাড় না দেয়, তবে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ২০২৭ সাল কিংবা তার পরেও দীর্ঘায়িত হতে পারে।




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।