Telegram-এর .gram ডোমেইন: সুযোগ, বাস্তবতা ও ঝুঁকি

yourname.gram: Telegram কি এক বিলিয়ন মানুষের ওয়েব-পরিচয়ের নতুন দরজা খুলছে?
চ্যাট, পরিচয় ও ওয়েবসাইট একই ছাতার নিচে—Telegram-এর উচ্চাভিলাষী .gram উদ্যোগ
স্ট্যান্ডফার্স্ট
ICANN-এর অনুমোদন পেলে Telegram ব্যবহারকারীরা নিজেদের ইউজারনেমের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যক্তিগত ওয়েব ঠিকানা এবং প্ল্যাটফর্মে হোস্ট করা ইন্টার্যাকটিভ সাইট পেতে পারেন। তবে আবেদনটি এখনো অনুমোদিত নয়; মূল্য, মালিকানা, নিরাপত্তা, মডারেশন ও TON-এর ভূমিকা—সবই রয়ে গেছে অনির্দিষ্ট।
মাহবুব আহমেদ। প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদন। প্রযুক্তি ডেস্ক
একটি ইউজারনেম, এবার সম্ভাব্য ওয়েব ঠিকানা
Telegram-এর প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেটের নতুন টপ-লেভেল ডোমেইন বা TLD হিসেবে .gram পরিচালনার জন্য Internet Corporation for Assigned Names and Numbers—ICANN-এর কাছে আবেদন করেছে।
আবেদনটি অনুমোদিত হলে Telegram-এর এক বিলিয়নের বেশি মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর জন্য yourname.gram ধরনের দ্বিতীয় স্তরের ডোমেইন চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। দুরভের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা Telegram-এর ভেতর থেকেই ইন্টার্যাকটিভ ওয়েবসাইট তৈরি ও হোস্ট করতে পারবেন—এমনকি একটি প্রম্পট দিয়েও সাইট তৈরির ব্যবস্থা থাকতে পারে।
এটি বাস্তবায়িত হলে Telegram-এর পরিচয় আর শুধু @username বা t.me/username লিংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। একটি অ্যাপভিত্তিক পরিচয় সরাসরি উন্মুক্ত ওয়েবের ঠিকানায় রূপ নিতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো—.gram এখনো অনুমোদিত ডোমেইন নয়, জনসাধারণের নিবন্ধনের জন্যও উন্মুক্ত নয়। ICANN এখন পর্যন্ত ২০২৬ সালের আবেদনকারীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি। ফলে Telegram-এর আবেদনসংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্যের প্রধান উৎস দুরভের নিজস্ব ঘোষণা; ICANN স্বাধীনভাবে শুধু নিশ্চিত করেছে যে এবারের আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং ১,৬০০টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
Telegram আসলে কী করতে চাইছে
প্রস্তাবটির দুটি স্বতন্ত্র অংশ রয়েছে।
প্রথমটি হলো .gram-কে বৈশ্বিক Domain Name System বা DNS-এর একটি প্রকৃত top-level domain হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। .com, .org বা .app-এর মতো এটি সাধারণ ওয়েব ব্রাউজার ও ইন্টারনেট অবকাঠামোর মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য একটি স্বীকৃত ডোমেইন-প্রত্যয় হবে।
দ্বিতীয় অংশটি হচ্ছে সেই ডোমেইনের ওপর Telegram-কেন্দ্রিক ওয়েবসাইট নির্মাণ ও হোস্টিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দুরভের ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা একটি প্রম্পট থেকে ইন্টার্যাকটিভ সাইট তৈরি করতে পারবেন। তবে Telegram এখনো জানায়নি:
কোন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল এসব সাইট তৈরি করবে;
ব্যবহারকারী নিজের কোড বা নকশা সম্পাদনা করতে পারবেন কি না;
সাইটের তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হবে;
সেবা বিনা মূল্যে, Premium-নির্ভর নাকি নিলামভিত্তিক হবে;
ডোমেইনের আইনি registrant ব্যবহারকারী হবেন, নাকি Telegram;
Telegram অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট ডোমেইনের কী হবে।
সুতরাং “এক প্রম্পটে ওয়েবসাইট”—ঘোষণাটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলেও এখন পর্যন্ত সেটি একটি প্রস্তাবিত পণ্য-দর্শন, পূর্ণাঙ্গ প্রকাশিত প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা নয়।
ICANN-এর আবেদন মানেই অনুমোদন নয়
ICANN-এর ২০২৬ New Generic Top-Level Domains Program-এর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছিল ৩০ এপ্রিল এবং শেষ হয়েছে ১২ আগস্ট রাত ২৩টা ৫৯ মিনিট UTC-তে। এটি ২০১২ সালের পর নতুন gTLD আবেদনের প্রথম বড় পর্ব। ICANN জানিয়েছে, ১৫ সপ্তাহের সময়সীমায় ১,৬০০টির বেশি মূল আবেদন জমা পড়েছে। প্রতিটি সাধারণ আবেদনের প্রাথমিক evaluation fee ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ডলার; বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ফি প্রয়োজন হতে পারে।
এরপরও .gram পাওয়ার পথ দীর্ঘ। প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর আবেদনগুলোর তালিকা প্রকাশ, জনমত গ্রহণ, সরকারি পরামর্শ, সম্ভাব্য আপত্তি, string-confusion review, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে একই নামের একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির ধাপ রয়েছে।
ICANN-এর প্রকাশিত সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, প্রশাসনিক যাচাই পেরোনো আবেদনগুলোর “Reveal Day” ২০২৬ সালের শেষভাগে হওয়ার কথা। আপত্তি ও মূল্যায়নের কিছু পর্যায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। অতএব .gram ঠিকানা শিগগিরই সাধারণ ব্যবহারকারীর হাতে চলে আসছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার সময় এখনো হয়নি।
২০১২ সালের পর্বে ICANN ১,৯৩০টি আবেদন পেয়েছিল; পরবর্তী সময়ে ১,২০০টির বেশি নতুন gTLD ইন্টারনেটের root zone-এ যুক্ত হয়। এই ইতিহাস দেখায়, আবেদন থেকে বাস্তব ডোমেইন চালু হওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তিগত, আইনি ও বাণিজ্যিক বহু বাধা অতিক্রম করতে হয়।
এক বিলিয়ন ব্যবহারকারী—কিন্তু এক বিলিয়ন ডোমেইন নয়
Telegram-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটি ২০২৫ সালে এক বিলিয়ন মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সীমা অতিক্রম করে। ফলে .gram চালু হলে সম্ভাব্য বাজার নিঃসন্দেহে বিশাল।
কিন্তু “এক বিলিয়ন ব্যবহারকারী ডোমেইন পেতে পারেন” এবং “এক বিলিয়ন ব্যবহারকারী বিনা মূল্যে ডোমেইন পাবেন”—দুটি এক কথা নয়। দুরভের ঘোষণায় দ্বিতীয় স্তরের ডোমেইন পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও প্রত্যেক ব্যবহারকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে, স্থায়ীভাবে বা বিনা মূল্যে ঠিকানা পাবেন—এমন বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশিত হয়নি।
এখানেই কয়েকটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আসে। একই নাম একাধিক ব্যক্তি চাইলে কে অগ্রাধিকার পাবেন? বর্তমান Telegram username কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট .gram ঠিকানার অধিকার দেবে? ট্রেডমার্ক, ছদ্মনাম, মৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং দেশের নাম বা সংরক্ষিত শব্দ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে?
Telegram-এর বর্তমান collectible username ব্যবস্থা কিছু ইঙ্গিত দেয়। প্রতিষ্ঠানটি TON blockchain-ভিত্তিক Fragment প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট ইউজারনেম কেনাবেচা ও নিলামের সুযোগ দেয়। তবে .gram একই পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে—Telegram এখনো তা বলেনি। কাজেই সম্ভাব্য নিলাম, টোকেন বা TON-নির্ভর মালিকানাকে নিশ্চিত পরিকল্পনা হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না।
স্বাধীন ওয়েবসাইট, নাকি আরেকটি ‘বদ্ধ বাগান’
প্রস্তাবটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে প্রবেশের বাধা কমে যাওয়া। একজন শিল্পী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, অভিবাসী ব্যবসায়ী বা প্রযুক্তিগত দক্ষতাহীন ব্যবহারকারী আলাদা hosting account, content-management system কিংবা web developer ছাড়াই অনলাইন পরিচয় তৈরি করতে পারেন।
একটি Telegram profile, channel, payment ব্যবস্থা, bot বা Mini App-এর সঙ্গে .gram সাইট যুক্ত হলে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য এটি দ্রুত ডিজিটাল storefront, portfolio, সংবাদপাতা বা community hub হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু এর বিপরীত দিকও আছে। ব্যবহারকারীর পরিচয়, ওয়েবসাইট, হোস্টিং, শ্রোতা, যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য লেনদেন একই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে platform lock-in তৈরি হয়। Telegram কোনো অ্যাকাউন্ট স্থগিত করলে কিংবা নীতিমালা পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটও কি অদৃশ্য হবে? ব্যবহারকারী কি সাইটের তথ্য অন্য হোস্টে স্থানান্তর করতে পারবেন? ডোমেইনটি অন্য registrar-এ transfer করা যাবে কি?
একটি প্রকৃত DNS ডোমেইন সাধারণ social-media handle-এর তুলনায় বেশি বহনযোগ্য হওয়ার কথা। কিন্তু .gram যদি কেবল Telegram-হোস্ট করা পরিচয়ের সঙ্গে বাঁধা থাকে, তাহলে এটি উন্মুক্ত ওয়েবের ঠিকানা হয়েও কার্যত একটি নিয়ন্ত্রিত ecosystem-এর প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে।
নিরাপত্তা: সহজ ওয়েবসাইটের সঙ্গে সহজ প্রতারণাও?
বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তি .gram-কে দ্রুত পরিচিত করে তুলতে পারে। একই পরিচিতি phishing, impersonation এবং fraudulent investment page তৈরির জন্যও আকর্ষণীয় হবে।
আক্রমণকারীরা পরিচিত নামের বানান সামান্য বদলে নকল ডোমেইন তৈরি করতে পারে। একটি prompt-based website generator খুব দ্রুত বৈধ সাইট তৈরি করলেও একই প্রযুক্তি প্রতারণামূলক login page, ভুয়া crypto promotion বা cloned storefront তৈরিতেও ব্যবহার হতে পারে।
এই ঝুঁকি কেবল তাত্ত্বিক নয়। Telegram-এ bots, Mini Apps, crypto wallets এবং বড় public channels আগে থেকেই সক্রিয়। ২০২৬ সালের একটি প্রাক্প্রকাশিত নিরাপত্তা গবেষণায় বিশ্লেষিত Telegram Mini App-গুলোর উল্লেখযোগ্য অংশে session token বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণের দুর্বলতা পাওয়া যায়। গবেষকদের responsible disclosure-এর পর Telegram secure-storage API চালু করে এবং নিজেদের Wallet-এর একটি গুরুতর সমস্যা সংশোধন করে। গবেষণাটি বৃহত্তর ecosystem-এর সব অ্যাপকে প্রতিনিধিত্ব করে না, তবে নতুন web-hosting layer চালুর আগে নিরাপদ coding, review এবং abuse response কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তা স্পষ্ট করে।
ICANN-এর নিয়ম অনুযায়ী সম্ভাব্য registry operator হিসেবে Telegram-কে DNS abuse মোকাবিলা, অভিযোগ গ্রহণ, trademark protection এবং প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতার ব্যবস্থা দেখাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মান নির্ভর করবে Telegram কত দ্রুত ক্ষতিকর ডোমেইন শনাক্ত ও বন্ধ করে এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ আপিলের ব্যবস্থা রাখে তার ওপর।
বিপর্যয় কি নিজস্ব TLD-এর প্রয়োজন দেখিয়েছে?
২০২৬ সালের জুলাইয়ে Telegram-এর বহুল ব্যবহৃত t.me short link সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে যায়। ঘটনাটি একটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা VPN পরিষেবার Telegram channel এবং .me registry-র compliance action-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। Telegram ক্ষতিকর সংযোগ সরানোর পর লিংকটি পুনরুদ্ধার হয়।
ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রায় এক বিলিয়ন ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি URL যখন অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত top-level domain-এর ওপর নির্ভরশীল থাকে, তখন বহিরাগত সিদ্ধান্ত পুরো link infrastructure-কে প্রভাবিত করতে পারে।
.gram-এর registry নিজে পরিচালনা করতে পারলে Telegram এই নির্ভরতা আংশিক কমাতে পারে। তবে এর অর্থ দায়ও কেন্দ্রীভূত হবে। নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশ, cybercrime complaint বা বিভিন্ন দেশের কনটেন্ট আইন তখন সরাসরি Telegram-কেই মোকাবিলা করতে হবে।
‘Gram’ নামের সঙ্গে পুরোনো TON ইতিহাস
.gram নামটি Telegram-এর ইতিহাসে নতুন নয়। “Gram” ছিল Telegram Open Network-এর পরিকল্পিত cryptocurrency token-এর নাম। মার্কিন Securities and Exchange Commission বা SEC অনিবন্ধিত securities offering-এর অভিযোগে Telegram ও TON Issuer-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।
২০২০ সালের নিষ্পত্তিতে Telegram বিনিয়োগকারীদের ১২০ কোটি ডলারের বেশি ফেরত দিতে এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার civil penalty দিতে সম্মত হয়। প্রতিষ্ঠানটি পরে মূল TON প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। বর্তমান TON blockchain স্বাধীন কমিউনিটির মাধ্যমে বিকশিত হলেও Telegram পরবর্তী সময়ে wallet, collectible usernames, Stars ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে TON ecosystem-এর সঙ্গে নতুন করে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেছে।
বর্তমানে .ton নামের একটি blockchain-based naming system রয়েছে, যা crypto wallet, smart contract ও TON Sites-এর মানবপাঠ্য ঠিকানা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু .ton সাধারণ DNS root-এ ICANN-অনুমোদিত প্রচলিত TLD নয়; ব্যবহার করতে বিশেষ resolver বা proxy দরকার হতে পারে।
এই জায়গায় .gram মৌলিকভাবে আলাদা হতে পারে। অনুমোদিত হলে এটি সাধারণ browser, DNS infrastructure এবং public internet-এর অংশ হবে। Telegram কি .gram-কে TON wallet ও blockchain assets-এর সঙ্গে যুক্ত করবে, নাকি মূলত প্রচলিত web domain হিসেবে রাখবে—তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রচলিত ডোমেইনের মূল্য কি কমে যাবে?
সামাজিক মাধ্যমে কিছু domain investor-এর উদ্বেগ থাকলেও .gram চালু হলেই .com, দেশভিত্তিক ডোমেইন বা প্রতিষ্ঠিত নামের বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে কমে যাবে—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
২০১২ সালের সম্প্রসারণের পর .app, .shop, .xyz ও .blog-এর মতো শত শত নতুন extension চালু হয়েছে। এগুলো বিকল্প ও বিশেষায়িত বাজার তৈরি করেছে, কিন্তু .com-এর দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রহণযোগ্যতা বিলুপ্ত করেনি।
.gram-এর সম্ভাব্য সাফল্য নির্ভর করবে অন্তত পাঁচটি বিষয়ের ওপর: ব্যবহারকারীর আস্থা, মূল্য, নাম বরাদ্দের নিয়ম, search-engine visibility এবং Telegram-এর বাইরে ডোমেইন ব্যবহারের স্বাধীনতা।
ব্যক্তিগত creator page বা Telegram-কেন্দ্রিক ব্যবসার জন্য .gram আকর্ষণীয় হতে পারে। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীন ই-মেইল, বহনযোগ্য হোস্টিং এবং Telegram-নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রণ চাইলে প্রচলিত ডোমেইন ধরে রাখার যথেষ্ট কারণ থাকবে।
ডিজিটাল পরিচয়ের মালিক কে?
এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিক ও নৈতিক: ডিজিটাল পরিচয়ের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে?
একটি সহজ, স্মরণযোগ্য ওয়েব ঠিকানা মানুষের অনলাইন পরিচয়কে শক্তিশালী করতে পারে। আবার সেই ঠিকানা যদি একটি private platform-এর account status, commercial policy ও moderation decision-এর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়, তবে ব্যবহারকারী মালিকের বদলে ভাড়াটিয়ায় পরিণত হতে পারেন।
Telegram-কে তাই পরিষ্কার করতে হবে:
ব্যবহারকারী ডোমেইনের আইনগত registrant হবেন কি না;
স্বাধীন registrar বা hosting provider-এ স্থানান্তরের অধিকার থাকবে কি না;
account suspension-এর সঙ্গে domain suspension স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে কি না;
ডোমেইন হারানোর বিরুদ্ধে appeal ও due-process ব্যবস্থা কী হবে;
সরকার বা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার অনুরোধ কীভাবে প্রকাশ করা হবে;
AI-নির্মিত সাইটের তথ্য প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞাপন বা profiling-এ ব্যবহৃত হবে কি না।
এই উত্তরগুলো ছাড়া .gram-কে “ব্যবহারকারীর নিজস্ব ওয়েবসাইট” বলা অসম্পূর্ণ। সেটি ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রিত সম্পদ, নাকি Telegram-এর দেওয়া প্রত্যাহারযোগ্য সুবিধা—এই পার্থক্যই প্রকল্পটির দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ধারণ করবে।
আমরা যা জানি
পাভেল দুরভ প্রকাশ্যে বলেছেন, Telegram .gram gTLD-এর জন্য ICANN-এ আবেদন করেছে।
পরিকল্পনায় yourname.gram ধরনের ঠিকানা এবং Telegram-hosted interactive website-এর কথা রয়েছে।
একটি প্রম্পট দিয়ে সাইট তৈরির সম্ভাবনার কথাও দুরভ বলেছেন।
Telegram ২০২৫ সালে এক বিলিয়ন মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী অতিক্রম করেছে।
ICANN-এর ২০২৬ আবেদনপর্ব ১২ আগস্ট শেষ হয়েছে এবং ১,৬০০টির বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
আবেদন করা মানেই অনুমোদন পাওয়া নয়।
যা এখনো অস্পষ্ট
ICANN-এর প্রকাশিত আবেদনতালিকায় .gram আনুষ্ঠানিকভাবে কবে দেখা যাবে।
আবেদনকারী Telegram-এর কোন নির্দিষ্ট আইনি সত্তা।
একই string-এর জন্য অন্য কোনো আবেদনকারী আছে কি না।
ICANN-এর মূল্যায়ন শেষে আবেদনটি অনুমোদিত হবে কি না।
ডোমেইন বিনা মূল্যে দেওয়া হবে, বিক্রি হবে, নাকি নিলামে উঠবে।
বর্তমান username holder-রা অগ্রাধিকার পাবেন কি না।
ডোমেইন transferable বা Telegram-এর বাইরে host করা যাবে কি না।
TON, Fragment বা blockchain মালিকানা ব্যবস্থার ভূমিকা থাকবে কি না।
AI website builder-এর প্রযুক্তি, মডারেশন ও তথ্য ব্যবহারের নীতি কী হবে।
সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ।
উৎস ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি ২২ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ। .gram আবেদনের দাবি পাভেল দুরভের সরাসরি ঘোষণার ভিত্তিতে যাচাই করা হয়েছে। ICANN আবেদনপর্ব, মোট আবেদন, ফি ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করলেও প্রশাসনিক যাচাই-পূর্ব গোপনীয়তার কারণে আবেদনকারীদের পূর্ণ তালিকা তখনো প্রকাশ করেনি। ফলে আবেদনটি জমা পড়ার দাবিকে বিশ্বাসযোগ্য primary-source statement হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু ICANN-অনুমোদিত বা চূড়ান্তভাবে গৃহীত আবেদন হিসেবে নয়।
প্রত্যক্ষ ও প্রামাণ্য সূত্র
#Telegram #GramDomain #ICANN #DigitalIdentity #ArtificialIntelligence #WebTechnology #TON #TechNews




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।