ট্রাম্পের নতুন শুল্ক যুদ্ধ: ৬০ দেশের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক, বিশ্ব বাণিজ্যে বাড়ছে উত্তেজনা

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক যুদ্ধ: ৬০ বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক, বিশ্ব বাণিজ্যে আবারও উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সাপ্তাহিক ক্যালিফোর্নিয়ার চিঠি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আবারও বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন ১০% ও ১২.৫% শুল্ক কার্যকর করেছে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labor) দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন শুল্কের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার রয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন আগে কার্যকর থাকা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এবার ১৯৭৪ সালের Trade Act-এর Section 301 ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। এর মাধ্যমে আগের “Reciprocal Tariffs” বাতিল হওয়ার পরও নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্কনীতি কার্যকর রাখা সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য, এটি শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং মানবাধিকার ও সরবরাহ শৃঙ্খলে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধ করার উদ্যোগ। তবে সমালোচকরা বলছেন, মানবাধিকারকে সামনে আনা হলেও বাস্তবে এটি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের “America First” এবং সুরক্ষাবাদী (Protectionist) অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা।
চীন, ব্রাজিল এবং আরও কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, একতরফাভাবে শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, যদিও কিছু বিদ্যমান চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পণ্যে ছাড় বহাল রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক অব্যাহতির সুবিধা পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন শুল্কের প্রভাব শুধু আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঝুঁকি থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন এক উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায় শুরু হতে পারে।
তবে প্রশাসনের সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ থাকলেও অনেক দেশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আরও কঠোর আইন প্রয়োগে বাধ্য হবে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এই নীতি শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি, বাণিজ্য বিরোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
#Trump #Tariffs #TradeWar #USPolitics #GlobalTrade #BreakingNews
Facebook Caption




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।