মার্কিন অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার বিশ্বজুড়ে স্থগিত

সব ভিসা নয়—বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার সাময়িক স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র
স্ট্যান্ডফার্স্ট
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কারণে দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সব ধরনের ভিসা বন্ধ—এমন দাবি সঠিক নয়। কবে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ডেক্স। বিশেষ সংবাদদাতা কর্তৃক প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত বহু অভিবাসী ভিসা—Immigrant Visa বা IV—সাক্ষাৎকার সাময়িকভাবে স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য চলমান একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সময় বের করতেই সাক্ষাৎকারের সূচিতে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র “সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট” বন্ধ করেছে। কিন্তু ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সংশোধিত প্রতিবেদনে রয়টার্স স্পষ্ট করেছে, বিরতিটি সব ভিসার ক্ষেত্রে নয়; অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ পর্যটন ও ব্যবসার B-1/B-2, শিক্ষার্থীদের F ও M, বিনিময় কর্মসূচির J কিংবা অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসাসহ সব নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বিশ্বব্যাপী একযোগে বন্ধ হয়েছে—এমন কোনো সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
তবে বিভিন্ন দেশে স্থানীয় দূতাবাসের সময়সূচি, প্রশিক্ষণের প্রয়োজন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা অনুসারে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার কিছু সাক্ষাৎকারও পৃথকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো আবেদনকারীর জন্য তাঁর নিজস্ব অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটই হবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা।
কী ঘটেছে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা-সংক্রান্ত কিছু অ্যাপয়েন্টমেন্ট সমন্বয় করা হচ্ছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম এ বিরতির খবর প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, আগে থেকে নির্ধারিত সাক্ষাৎকার থাকা অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে তাঁদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণের পূর্ণ সময়সীমা, কতজন আবেদনকারীর সাক্ষাৎকার পরিবর্তিত হয়েছে কিংবা অঞ্চলভেদে কত দিন বিলম্ব হতে পারে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি।
এটি ভিসা আবেদন বাতিলের ঘোষণাও নয়। কোনো সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারিত হওয়ার অর্থ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বা আবেদনকারী ভবিষ্যতে ভিসা পাবেন না—এমন নয়। তবে নতুন তারিখ না পাওয়া পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে না।
প্রশিক্ষণের কেন্দ্রে ‘পাবলিক চার্জ’ যাচাই
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণের একটি লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারের আর্থিক সহায়তা বা নির্দিষ্ট জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন কনস্যুলেটে আবেদন মূল্যায়নের পদ্ধতি যেন “সামগ্রিক ও ধারাবাহিক” হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
মার্কিন অভিবাসন আইনে এই ধারণাটি সাধারণভাবে “public charge” নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ, আয়, শিক্ষা, দক্ষতা এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মতো বিষয় বিবেচিত হয়ে আসছে।
তবে “কখনো সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে”—এমন অনুমানকে যদি বিস্তৃত ও অস্পষ্টভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈষম্য ও অসামঞ্জস্য তৈরির আশঙ্কা থাকে। কম আয়ের দেশ, বড় পরিবার, বয়স্ক আবেদনকারী কিংবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এতে তুলনামূলক বেশি অসুবিধায় পড়তে পারেন—অভিবাসী অধিকারকর্মীদের প্রধান উদ্বেগ এখানেই।
প্রশাসনের অবস্থান ভিন্ন। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে আসা ব্যক্তির আর্থিক স্বনির্ভরতা যাচাই করা বিদ্যমান আইনের অংশ এবং অভিন্ন প্রশিক্ষণ সিদ্ধান্তের মান ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক।
স্থগিতাদেশটি কাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
অভিবাসী ভিসা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে চান। এর মধ্যে সাধারণত রয়েছেন:
মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার স্পনসর করা পরিবারের সদস্য;
অনুমোদিত কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী;
ডাইভার্সিটি ভিসা বা DV কর্মসূচির নির্বাচিত আবেদনকারী;
নির্দিষ্ট বিশেষ অভিবাসী শ্রেণির আবেদনকারী।
অন্যদিকে B-1/B-2 পর্যটন ও ব্যবসা, F-1 শিক্ষার্থী, J-1 বিনিময় কর্মসূচি এবং অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মভিত্তিক ভিসা নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা। বর্তমান বৈশ্বিক বিরতির খবরকে এসব শ্রেণির ওপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞা হিসেবে ব্যাখ্যা করার পক্ষে পর্যাপ্ত সরকারি প্রমাণ নেই।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজেদের ভিসার শ্রেণি এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের অবস্থা আলাদাভাবে যাচাই করা। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার থেকে সাক্ষাৎকার পরিবর্তনের সরাসরি ই-মেইল না এলে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে যাত্রা বা নথি প্রস্তুতি বাতিল করা উচিত নয়।
৭৫ দেশের নীতি বাতিলের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন বিরতি
এই বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ এমন এক সময়ে শুরু হলো, যখন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার একটি পৃথক নীতি বাতিল করেছে।
ম্যানহাটনের মার্কিন জেলা বিচারক জ্যানেট ভার্গাস ২১ আগস্ট রায় দেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি জারি করে তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। আদালতের মতে, শুধু জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি দেশের সব আবেদনকারীকে একযোগে ভিসা না দেওয়ার নির্দেশ মার্কিন অভিবাসন আইনের কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসন ৭৫ দেশের আবেদনকারীদের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু বিচারক বলেন, কংগ্রেস প্রতিটি আবেদন নির্দিষ্ট আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যালোচনার ক্ষমতা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দিয়েছে; পররাষ্ট্র দপ্তর জাতীয়তার ভিত্তিতে সেই বিবেচনা আগেই বাতিল করে দিতে পারে না।
বর্তমান প্রশিক্ষণজনিত বিরতি এবং আদালতে বাতিল হওয়া ৭৫ দেশের নীতি এক বিষয় নয়। আগেরটি ছিল নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা; বর্তমানটি অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ। তবে দুটির কেন্দ্রেই “পাবলিক চার্জ” মূল্যায়ন থাকায় নতুন প্রশিক্ষণ বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা নিয়ে আইনি ও মানবাধিকারগত প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা নাকি বৈধ অভিবাসনের পথে নতুন প্রতিবন্ধকতা
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কঠোর যাচাই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসনব্যবস্থার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশ্য নথিতে বলেছে, প্রতিটি ভিসা-সিদ্ধান্তকে তারা জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখে এবং আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে হয়।
২০২৬ সালের মার্চে পররাষ্ট্র দপ্তর বিভিন্ন নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনার পরিধিও বাড়ায়। H-1B, F, M ও J-এর পাশাপাশি K, R, T, U এবং আরও কয়েকটি শ্রেণির আবেদনকারীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইল “public” বা “open” রাখতে বলা হয়।
সমালোচকদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা যাচাইয়ের সীমা যদি স্পষ্ট না হয়, তাহলে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, ধর্মীয় পরিচয়, জাতিগত পটভূমি কিংবা বৈধ প্রতিবাদকেও সন্দেহজনক আচরণ হিসেবে দেখা হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মতো নীতির সঙ্গে এমন বিস্তৃত নজরদারির সংঘাত ঘটতে পারে।
প্রশাসনের সমর্থকেরা পাল্টা যুক্তি দেন, ভিসা বিদেশি নাগরিকের স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা-ঝুঁকি পরীক্ষা করতে পারে। আইনি বিতর্কটি তাই যাচাই হবে কি না—এ প্রশ্নে নয়; বরং যাচাইয়ের মানদণ্ড কতটা সুনির্দিষ্ট, ব্যক্তিকেন্দ্রিক, প্রমাণনির্ভর এবং বৈষম্যহীন—সেখানে।
পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব মূল্য
প্রশাসনিক ভাষায় এটি একটি “সূচি সমন্বয়”; কিন্তু আবেদনকারীর জীবনে এর প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য অনেকেই চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন করেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করেন, অন্য শহর বা দেশে ভ্রমণ করেন এবং কাজ ও বাসস্থানের পরিকল্পনা বদলে ফেলেন।
এসব নথির কিছু অংশের মেয়াদ সীমিত। দীর্ঘ বিলম্ব হলে নতুন করে চিকিৎসা পরীক্ষা বা অন্য নথি সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে। ডাইভার্সিটি ভিসার মতো সময়সীমাবদ্ধ কর্মসূচিতে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ভিসা না পেলে সুযোগ হারানোর ঝুঁকিও থাকে। তবে বর্তমান বিরতি DV আবেদনকারীদের ওপর ঠিক কীভাবে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক ব্যাখ্যা দেয়নি।
পরিবারভিত্তিক মামলায় বিলম্ব মানে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও মা-বাবার বিচ্ছিন্নতা আরও দীর্ঘ হওয়া। কর্মসংস্থানভিত্তিক মামলায় নিয়োগকর্তার পরিকল্পনা এবং কর্মীর পেশাগত ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। ফলে প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয় হলেও এর সময়সীমা ও পুনর্নির্ধারণের পদ্ধতি দ্রুত প্রকাশ করা প্রশাসনিক জবাবদিহির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
আবেদনকারীরা এখন কী করবেন
যাঁদের সাক্ষাৎকারের তারিখ রয়েছে, তাঁদের উচিত:
দূতাবাস, কনস্যুলেট বা ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার থেকে আসা ই-মেইল নিয়মিত পরীক্ষা করা;
স্প্যাম বা জাঙ্ক ফোল্ডারও দেখা;
সরকারি অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে মামলার অবস্থা যাচাই করা;
দূতাবাস নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল না করা;
ভিসা হাতে পাওয়ার আগে অ-ফেরতযোগ্য বিমান টিকিট না কেনা, চাকরি না ছাড়া এবং সম্পত্তি বিক্রির মতো বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়া;
চিকিৎসা পরীক্ষা বা অন্য নথির মেয়াদ শেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দূতাবাস বা অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া।
পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেও আবেদনকারীদের সতর্ক করে যে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং ভিসা হাতে আসার আগে অপরিবর্তনীয় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
আমরা যা জানি / যা এখনো অস্পষ্ট
আমরা যা জানি
বিশ্বজুড়ে মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ চলছে।
প্রশিক্ষণের সময় বের করতে অভিবাসী ভিসার বহু সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারিত হচ্ছে।
এটি ভিসা আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা নয়।
রয়টার্স তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন সংশোধন করে জানিয়েছে, বিরতিটি “সব ভিসা” নয়—অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্টে।
প্রশিক্ষণে “পাবলিক চার্জ” বা সরকারি সহায়তার ওপর সম্ভাব্য নির্ভরতার মূল্যায়ন গুরুত্ব পাচ্ছে।
যা এখনো অস্পষ্ট
প্রশিক্ষণ ও সাক্ষাৎকারের বিরতি ঠিক কত দিন চলবে।
কত দেশ, দূতাবাস এবং আবেদনকারী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন।
সব অভিবাসী ভিসা শ্রেণি সমানভাবে প্রভাবিত হচ্ছে কি না।
পুনর্নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের নতুন তারিখ কখন জানানো হবে।
DV ও সময়সীমাবদ্ধ অন্যান্য মামলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে কি না।
প্রশিক্ষণ শেষে “পাবলিক চার্জ” মূল্যায়নের বাস্তব মানদণ্ড কীভাবে বদলাবে।
সূত্র ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি ২৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। রয়টার্সের সংশোধিত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্থগিতাদেশটি immigrant visa appointments-এর ক্ষেত্রে—“all visas” নয়। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণের খবর দেয়। ৭৫ দেশের পৃথক নীতি বাতিলের তথ্য রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আদালতের রায়ের বিবরণ দিয়ে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন উপস্থিতি যাচাই-সংক্রান্ত তথ্য পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে নেওয়া।
সরাসরি সূত্র
Financial Times: Trump administration pauses immigrant visa applications
Reuters: Judge strikes down visa policy affecting 75 countries
Associated Press: Federal judge vacates 75-country visa policy
#USVisa #ImmigrantVisa #VisaUpdate #USImmigration #BangladeshiAmericans #PublicCharge #TrumpAdministration #CaliforniaChithi




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।