আমির খানের তৃতীয় বিয়ে: ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়, নাকি বলিউডের ‘পারফেকশনিস্ট’ ইমেজের আরেক বিতর্ক?
আমির খানের তৃতীয় বিয়ে: ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়, নাকি বলিউডের ‘পারফেকশনিস্ট’ ইমেজের আরেক বিতর্ক?

বলিউডে আমির খান দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ নামে। অভিনয়, প্রযোজনা, সামাজিক বার্তা—সবখানেই তিনি নিয়ন্ত্রিত, চিন্তাশীল ও ব্যতিক্রমী এক তারকা-ইমেজ গড়ে তুলেছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের প্রশ্নে সেই ‘পারফেকশন’ এখন আবার জনসমক্ষে আলোচনার বিষয়। ৬১ বছর বয়সে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করে তিনি তৃতীয়বারের মতো দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৫ জুলাই ২০২৬ মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসভবনে ঘনিষ্ঠ পরিসরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়।
আমির খানের প্রথম বিয়ে হয়েছিল রীনা দত্তের সঙ্গে ১৯৮৬ সালে। সেই সংসারে তাঁদের দুই সন্তান—জুনায়েদ ও ইরা। ২০০২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে ২০০৫ সালে তিনি বিয়ে করেন নির্মাতা কিরণ রাওকে। তাঁদের ছেলে আজাদ রাও খান। ২০২১ সালে আমির ও কিরণ যৌথভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন, তবে সন্তানের অভিভাবকত্ব ও পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখার কথাও জানান।
এই তৃতীয় বিয়েকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে যে প্রশ্ন ছড়িয়েছে—“তৃতীয় ডিভোর্স কবে?” বা “পরবর্তী বিয়ে কত বছর বয়সে?”—তা নিছক রসিকতা হলেও এর ভেতরে আছে তারকা-সংস্কৃতির এক নির্মম প্রবণতা। জনমানুষ তারকার ব্যক্তিগত জীবনকে প্রায়শই বিনোদনের কাঁচামাল বানায়। অথচ বিয়ে, বিচ্ছেদ, পুনর্বিবাহ—এসব একজন মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত; এখানে ভবিষ্যৎ ডিভোর্স অনুমান করা যেমন অসংবেদনশীল, তেমনি সম্পর্কের জটিলতাকে সস্তা হাস্যরসে নামিয়ে আনা।
তবে সমালোচনার জায়গাও আছে। আমির খান নিজেকে সবসময় সামাজিকভাবে সচেতন, পরিমিত ও দায়িত্বশীল তারকা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তও জনপরিসরে আলোচিত হবে—এটি অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন তাঁর দুই পূর্বতন সংসারই দীর্ঘ সময় টিকে থেকেও ভেঙেছে, তখন নতুন সম্পর্ক নিয়েও কৌতূহল তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই কৌতূহল যেন ব্যক্তিগত আক্রমণে না গড়ায়—এটাই নৈতিক সাংবাদিকতার সীমারেখা।
আরেকটি দিক গুরুত্বপূর্ণ। আমিরের প্রাক্তন স্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রকাশ্যে তিক্ততার ভাষায় দেখা যায়নি। কিরণ রাও আগেও বলেছেন, রীনা দত্ত পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাননি; বিচ্ছেদের পরও পারিবারিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ছিল। এই বাস্তবতা ভারতীয় সমাজে বিবাহবিচ্ছেদকে ঘিরে প্রচলিত শত্রুতা-ধারণার বাইরে এক পরিণত উদাহরণ তৈরি করে। Moneycontrol–এর প্রতিবেদনে আমিরের পুরোনো মন্তব্যও উঠে এসেছে—বিচ্ছেদ হলেই মানুষ শত্রু হয়ে যায়, এমন কোনো নিয়ম নেই।
সুতরাং এই বিয়েকে শুধু “তৃতীয় বিয়ে” হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। এটি বলিউডের তারকা-জীবন, বয়স, প্রেম, পরিবার, বিচ্ছেদ ও সামাজিক বিচার—সবকিছুর মিলিত প্রতিচ্ছবি। কেউ বলবেন, ৬১ বছর বয়সে নতুন জীবন শুরু করা সাহসের; কেউ বলবেন, একজন পাবলিক ফিগারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও জনআলোচনার বাইরে নয়। সত্য সম্ভবত মাঝখানে: আমির খান একজন বড় শিল্পী, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও একজন মানুষ—ভুল, পরিবর্তন, আকাঙ্ক্ষা ও নতুন শুরুর অধিকার তাঁরও আছে।
#AamirKhan #AamirKhanWedding #MrPerfectionist #BollywoodNews #BollywoodBuzz #CelebrityWedding #EntertainmentNews #IndianCinema #CelebrityNews #TrendingNow #ViralNews #FilmIndustry #BollywoodLife




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।