হাসিনা–কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে প্রস্তাব, রেড নোটিশের আবেদন ইন্টারপোলে

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতকে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছে সরকার। তবে কোনো আবেদন পাঠানো, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হওয়া এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাস্তবে দেশে ফিরিয়ে আনা—আইনগতভাবে তিনটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাপ।
মাহবুব আহমেদ। শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষন।
চার পলাতক, চার ধরনের আইনি পরিস্থিতি
ঢাকা—বিদেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ এবং মানব পাচার মামলার আসামি মোল্লা নজরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি তৎপরতা চালানোর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির আবেদনও করেছে বাংলাদেশ।
সরকারের বক্তব্যে চারজনকে একই সঙ্গে উল্লেখ করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারিক অবস্থা, অবস্থানকারী দেশ এবং প্রত্যর্পণের আইনি পথ এক নয়। ফলে সবাইকে দেশে ফেরানোর সম্ভাবনাও সমান নয়।
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিত অবস্থায় দণ্ডিত। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হয়েছেন। মোল্লা নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একদিকে অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচারের মান এবং প্রতিবেশী ভারতের রাজনৈতিক–কূটনৈতিক হিসাব।
শেখ হাসিনা ও কামালকে ঘিরে সবচেয়ে জটিল সমীকরণ
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁরা দুজনই অনুপস্থিত অবস্থায় বিচারের মুখোমুখি হন। শেখ হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলন দমনের সময় সর্বোচ্চ প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারেন। নিহতদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল শিশু ও তরুণ। প্রতিবেদনে সাবেক সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত দমননীতি এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের যুক্তিসংগত ভিত্তি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। কিছু ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে বলেও জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে।
এই অনুসন্ধান বিচার ও জবাবদিহির দাবিকে শক্তিশালী করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো একই সঙ্গে বলেছে, অপরাধ যত গুরুতরই হোক, বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মান মেনে হতে হবে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাননি এবং অনুপস্থিতিতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে—যা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগ সৃষ্টি করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের অধিকার স্বীকার করে বলেছে, মৃত্যুদণ্ড সেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না।
অর্থাৎ দুটি সত্যকে একই সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে: ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নের নিরপেক্ষ বিচার অপরিহার্য; আবার সেই বিচার প্রতিশোধ, তাড়াহুড়া বা প্রক্রিয়াগত দুর্বলতায় প্রশ্নবিদ্ধ হলে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারত–বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি কী বলে
ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে একটি প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে; ২০১৬ সালে সেটি সংশোধন করা হয়। চুক্তির সাধারণ কাঠামো অনুযায়ী, কোনো কাজ দুই দেশেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হলে এবং ন্যূনতম নির্ধারিত মাত্রার শাস্তিযোগ্য হলে তা প্রত্যর্পণযোগ্য অপরাধ হতে পারে।
তবে প্রত্যর্পণ কোনো স্বয়ংক্রিয় প্রশাসনিক হস্তান্তর নয়। অনুরোধ পাওয়া দেশ অভিযোগের প্রকৃতি, নথিপত্র, চুক্তির শর্ত, বিচারপ্রক্রিয়ার মান এবং সম্ভাব্য মানবাধিকার পরিণতি পরীক্ষা করতে পারে।
চুক্তির ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। আবার হত্যা, নরহত্যা, অপহরণ, বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধসহ কয়েকটি কাজকে শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল—এই যুক্তিতে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার বিধানও আছে।
ফলে “রাজনৈতিক মামলা” দাবি করলেই ভারতের জন্য প্রত্যর্পণ প্রত্যাখ্যান করা বাধ্যতামূলক নয়। একইভাবে, বাংলাদেশে আদালতের দণ্ড হয়েছে বলেই ভারতকে অবিলম্বে অভিযুক্তকে হস্তান্তর করতে হবে—এমন সরল সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে নিশ্চিত করেছিল যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বাংলাদেশের অনুরোধ তারা পেয়েছে এবং বিষয়টি তাদের বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাইতেও নয়াদিল্লি জানায়, তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বিষয়টি একটি আইনি প্রশ্ন।
২৭ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ভারত নতুন কোনো প্রকাশ্য সিদ্ধান্ত জানিয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
রেড নোটিশ মানেই আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়
“রেড নোটিশ” কথাটি জনপরিসরে প্রায়ই আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইন্টারপোলের নিজস্ব ব্যাখ্যা বলছে, এটি সঠিক নয়।
রেড নোটিশ হলো কোনো ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত এবং প্রত্যর্পণ, আত্মসমর্পণ বা সমজাতীয় আইনি পদক্ষেপের আগে সাময়িক গ্রেপ্তারের অনুরোধসংবলিত আন্তর্জাতিক সতর্কতা। এটি কোনো আন্তর্জাতিক আদালতের পরোয়ানা নয় এবং ইন্টারপোল কোনো সদস্যরাষ্ট্রকে কাউকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য করতে পারে না। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব আইন অনুসারে সিদ্ধান্ত নেয়।
ইন্টারপোলের সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদ সংস্থাটিকে প্রধানত রাজনৈতিক, সামরিক, ধর্মীয় বা জাতিগত চরিত্রের কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে নিষেধ করে। তাই সাবেক সরকারপ্রধান বা বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে রেড নোটিশের আবেদন হলে অভিযোগের সাধারণ অপরাধমূলক উপাদান এবং মামলার সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দুটিই পরীক্ষা করা হয়।
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ “জারির আবেদন” করা হয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারপোল ইতিমধ্যে নোটিশ অনুমোদন বা প্রকাশ করেছে।
ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে কারও নাম দেখা না গেলেও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে তাঁর বিষয়ে কোনো নোটিশ নেই। নিরাপত্তা ও তদন্তের কারণে অনেক রেড নোটিশ কেবল সদস্যদেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা সংস্থার জন্য সীমিত থাকে। তবে বাংলাদেশ সরকার বা ইন্টারপোলের পৃথক আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা ছাড়া হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ ইতিমধ্যে জারি হয়েছে—এ দাবি করাও যথাযথ হবে না।
বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে আমিরাতে আইনি লড়াই
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর ১৬ জুন বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠায়।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় আমিরাত সরকার পারস্পরিক সহযোগিতার নিশ্চয়তা চেয়েছে বলে তিনি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট প্রয়োজনীয় নথিপত্র কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে। আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের কথাও সংসদকে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
চুক্তি না থাকা মানেই প্রত্যর্পণ অসম্ভব নয়। পারস্পরিকতা, স্থানীয় আদালতের অনুমোদন, অভিযুক্ত ব্যক্তির অভিবাসনগত অবস্থা কিংবা প্রশাসনিক বহিষ্কারের মতো বিকল্প পথ থাকতে পারে। তবে প্রত্যেকটি পথেই আমিরাতের সার্বভৌম আইনি সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
বেনজীর আহমেদকে কোথায়, কোন আইনে এবং কী শর্তে আটক রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে আমিরাত কর্তৃপক্ষের স্বাধীন আনুষ্ঠানিক বিবরণ এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর গ্রেপ্তার ও বর্তমান হেফাজত-অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যই প্রধান সরকারি উৎস।
লিবিয়ায় মোল্লা নজরুল, ফিরিয়ে আনা আরও অনিশ্চিত
মানব পাচারের মামলায় অভিযুক্ত এবং রেড নোটিশধারী মোল্লা নজরুল ইসলাম লিবিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৬ মার্চ তাঁকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
লিবিয়ার বিভক্ত প্রশাসন, দুর্বল কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেকোনো প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে, তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় কোনো মামলা আছে কি না এবং কোন আইনি ব্যবস্থায় তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।
দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনার নজির
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিদেশ থেকে হত্যা মামলার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। রেড নোটিশভুক্ত মো. আরিফ সরকারকে ৬ মে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মোবারক মণ্ডলকে ২৭ মে কাতার থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
এই দুটি ঘটনা দেখায়, ইন্টারপোলের সতর্কতা, দ্বিপক্ষীয় পুলিশি সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ একসঙ্গে কাজ করলে প্রত্যর্পণ বা হস্তান্তর সম্ভব হতে পারে। কিন্তু সাধারণ হত্যা মামলার আসামিকে ফেরানো এবং একটি প্রতিবেশী দেশের আশ্রয়ে থাকা সাবেক সরকারপ্রধানকে ফিরিয়ে আনা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে একই মাত্রার কাজ নয়।
ন্যায়বিচার, মৃত্যুদণ্ড ও কূটনীতির সংঘাত
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলার বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান—গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে আশ্রয় দিয়ে রাখা জবাবদিহির পথে বাধা। অন্যদিকে ভারতকে বিচার করতে হবে, প্রত্যর্পণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুনর্বিচার বা কার্যকর আপিলের সুযোগ পাবেন কি না, বিচারপ্রক্রিয়া যথেষ্ট স্বাধীন ও ন্যায্য কি না এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি কীভাবে বিবেচিত হবে।
ভারত নিজেও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দেশ। তাই শুধু মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনাই প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয় বাধা হবে—এমন কথা বলা যায় না। কিন্তু অনুপস্থিতিতে বিচার, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রক্রিয়াগত আপত্তি ভারতের আইনি ও কূটনৈতিক পর্যালোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ন্যায়বিচারের সবচেয়ে টেকসই পথ হবে এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ২০২৪ সালের নিহত ও নির্যাতিত মানুষের সত্য জানার অধিকার নিশ্চিত হবে, অভিযুক্ত ব্যক্তির যথাযথ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকবে এবং বিচারকে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের বিজয় বা প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হবে না।
দেশে ফেরানো এই প্রক্রিয়ার একটি ধাপ হতে পারে; ন্যায়বিচার তার চেয়ে অনেক বড় দায়িত্ব।
যা জানা গেছে
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত চেয়ে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
তাঁদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে।
ভারত আগেই নিশ্চিত করেছে যে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ তাদের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনাধীন।
বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রস্তাব ও অতিরিক্ত নথি পাঠানোর কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মোল্লা নজরুল ইসলামকে লিবিয়া থেকে ফেরাতে ১৬ মার্চ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
২০২৬ সালে আরিফ সরকার ও মোবারক মণ্ডল নামে দুই রেড নোটিশভুক্ত আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
যা এখনো অস্পষ্ট
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ অনুমোদন করেছে কি না।
ভারতের কাছে সর্বশেষ প্রত্যর্পণ প্রস্তাবটি ঠিক কবে এবং কোন নথির ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছে।
ভারত অনুরোধটির বিষয়ে কোনো সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবে কি না।
বেনজীর আহমেদের বর্তমান আইনি ও হেফাজতগত অবস্থা কী।
মোল্লা নজরুল ইসলামকে কোন লিবীয় কর্তৃপক্ষ আটক রেখেছে এবং প্রত্যর্পণের স্থানীয় আইনি ধাপ কত দূর এগিয়েছে।
প্রত্যর্পণ হলে অনুপস্থিতিতে দণ্ডিত ব্যক্তিরা পুনর্বিচার বা কার্যকর আপিলের সুযোগ পাবেন কি না।
সূত্র ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে সংশ্লিষ্ট বিদেশি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সম্পূর্ণ যাচাই করা যায়নি। ইন্টারপোলের আবেদনকে জারি হওয়া রেড নোটিশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। ভারত, ইন্টারপোল, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রকাশ্য তথ্য দিয়ে আইনগত ও মানবাধিকার প্রেক্ষাপট যাচাই করা হয়েছে।
প্রধান সূত্র
#SheikhHasina #Bangladesh #Extradition #Interpol #IndiaBangladesh #HumanRights #RuleOfLaw #বাংলাদেশ




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।