আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিনলেন জাকারবার্গ

আয়ারল্যান্ডে জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা: ৪৪০ একরের ঐতিহাসিক স্ট্র্যানকালি প্রাসাদ
বিকল্প শিরোনাম
মেটার আইরিশ সংযোগ আরও গভীর: স্ট্র্যানকালি ক্যাসল কিনলেন জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান
প্রযুক্তি–সম্পদ থেকে ঐতিহ্যের মালিকানা: জাকারবার্গের হাতে আয়ারল্যান্ডের গথিক প্রাসাদ
দাম গোপন, মূল্যমান €৩০ মিলিয়ন পর্যন্ত: জাকারবার্গের নতুন আইরিশ এস্টেট
স্ট্যান্ডফার্স্ট
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে উনিশ শতকের স্ট্র্যানকালি ক্যাসল ও সংলগ্ন ৪৪০ একরের এস্টেট কিনেছেন। ক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি; তবে সম্পত্তিটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য €২০–৩০ মিলিয়ন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত এই কেনাকাটা একই সঙ্গে সামনে এনেছে ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রযুক্তি-বিলিয়নিয়ারদের আইরিশ সম্পত্তিতে আগ্রহ এবং ব্যক্তিগত হাতে ঐতিহাসিক স্থাপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন।
মাহফুজ আহমেদ। বিশেষ প্রতিবেদন। যুক্তরাষ্ট্র ডেস্ক
আয়ারল্যান্ডে দুর্গ কিনলেন মার্ক জাকারবার্গ
ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীরে পাথরে গড়া প্রাসাদটির ছায়া বিকেলের আলোয় দীর্ঘ হয়ে নামে। চারদিকে বন, কৃষিজমি, বাগান ও নদীপথ—নগরজীবনের কোলাহল থেকে বহু দূরে যেন উনিশ শতকের একটি সংরক্ষিত দৃশ্য। এখন সেই দৃশ্যের নতুন মালিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা মার্ক জাকারবার্গ এবং তাঁর স্ত্রী, চিকিৎসক ও সমাজসেবী প্রিসিলা চ্যান।
দম্পতি আয়ারল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে অবস্থিত স্ট্র্যানকালি ক্যাসল এবং এর প্রায় ৪৪০ একর বা ১৭৮ হেক্টরের এস্টেট কিনেছেন। ২০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত অনুসন্ধানে প্রথম খবরটি জানায় দ্য আইরিশ টাইমস। পরে জাকারবার্গের একজন মুখপাত্র রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কাছে লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকারবার্গ পরিবার ঐতিহাসিক বাড়িটির যত্ন অব্যাহত রাখতে এবং আয়ারল্যান্ডে সময় কাটাতে আগ্রহী। দেশটিতে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর রয়েছে।
কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি—জাকারবার্গ ও চ্যান ঠিক কত অর্থ পরিশোধ করেছেন।
লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারে হয়নি এবং ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের সরকারি Residential Property Price Register-এ এর বিবরণ দেখা যায়নি। সম্পত্তির অবস্থান, আকার, স্থাপত্যমান ও গত দুই দশকের পুনরুদ্ধারকাজ বিবেচনায় দ্য আইরিশ টাইমস এর সম্ভাব্য মূল্য €২০–৩০ মিলিয়ন বলে অনুমান করেছে। অর্থাৎ সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত অঙ্কটি কোনো নিশ্চিত বিক্রয়মূল্য নয়; এটি বাজারভিত্তিক মূল্যায়নমাত্র।
‘ক্যাসল’, তবে মধ্যযুগীয় দুর্গ নয়
স্ট্র্যানকালিকে সাধারণভাবে “ক্যাসল” বলা হলেও বর্তমান মূল ভবনটি মধ্যযুগীয় সামরিক দুর্গ নয়। এটি মূলত গথিক রিভাইভাল ধারায় নির্মিত উনিশ শতকের একটি বিশাল কান্ট্রি হাউস—যার নকশায় দুর্গের মিনার, পাথুরে দেয়াল ও রক্ষণাত্মক স্থাপত্যের আবহ ব্যবহার করা হয়েছে।
আয়ারল্যান্ড সরকারের National Inventory of Architectural Heritage বা NIAH-এর নথিতে ভবনটিকে উচ্চমানের পাথরের কাজ ও কারুকার্যসমৃদ্ধ, দৃঢ় ও বিশাল গথিক স্থাপনা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। Waterford City and County Council-এর Record of Protected Structures-এও “Strancally Castle and Demesne” অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বর্তমান ভবনটি আনুমানিক ১৮৩০ সালে জন কিলির জন্য নির্মাণ করা হয়। কিলি ছিলেন ক্লনমেলের সাবেক টোরি সংসদ সদস্য এবং কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডের সাবেক হাই শেরিফ। নকশা করেছিলেন স্থপতি ভ্রাতৃদ্বয় জেমস পেইন ও জর্জ রিচার্ড পেইন। একই স্থপতিরা আয়ারল্যান্ডের ড্রোমোল্যান্ড ক্যাসল, কর্ক কাউন্টি গাওল ও ব্ল্যাকরক ক্যাসলের মতো উল্লেখযোগ্য ভবনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
স্থাপত্যটির বিস্তার বোঝাতে ব্রায়ান ডি ব্রেফনি ও রোজমেরি ফোলিওট তাঁদের The Houses of Ireland গ্রন্থে একটি স্মরণীয় বিবরণ দিয়েছিলেন: রান্নাঘর থেকে খাবার ঘরে দ্রুত হেঁটেও পৌঁছাতে প্রায় সাড়ে চার মিনিট লাগত। এই বর্ণনা প্রাসাদটির অস্বাভাবিক আকারের ধারণা দিলেও বর্তমান অভ্যন্তরীণ বিন্যাস আগের মতো আছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, তিনতলা মূল ভবনের আয়তন প্রায় ১৬ হাজার বর্গফুট। এতে ১১টি শয়নকক্ষ, টাওয়ার অংশে কয়েকটি স্যুইট, গ্রন্থাগার, আনুষ্ঠানিক বসার ও খাবার ঘর রয়েছে। এস্টেটটি ব্ল্যাকওয়াটার নদীর তীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
পুরোনো দুর্গ, রক্তাক্ত কিংবদন্তি
বর্তমান প্রাসাদের কাছে আরও পুরোনো একটি দুর্গের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। স্থানীয় লোককথায় সেই পুরোনো স্ট্র্যানকালিকে ঘিরে ভয়াবহ এক কাহিনি প্রচলিত।
কিংবদন্তি অনুযায়ী, দুর্গের একদল দখলদার ধনী অতিথিদের ভোজে আমন্ত্রণ জানিয়ে একটি গোপন ফাঁদদরজা দিয়ে নিচের জলমগ্ন গুহায় ফেলে হত্যা করত। পরে প্রতারণার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরোনো দুর্গটি ধ্বংস করা হয়। আইরিশ সাহিত্য ও লোককথায় “murder hole” নামে কাহিনিটির নানা সংস্করণ পাওয়া যায়।
তবে এ গল্পকে প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করার মতো সমসাময়িক ও নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য দলিল সীমিত। ফলে এটি স্ট্র্যানকালির সাংস্কৃতিক স্মৃতির অংশ, যাচাইকৃত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ নয়।
২৫ বছরের পুনরুদ্ধারের পর মালিকানা বদল
স্ট্র্যানকালির আগের মালিক ছিলেন লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান RAB Capital-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল অ্যালেন-বাকলি এবং তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা অ্যালেন-বাকলি। জিয়ানকার্লা হোটেল ব্যবসায়ী প্রয়াত চার্লস ফোর্তের মেয়ে এবং রোকো ফোর্তের বোন।
দম্পতি প্রায় ২৫ বছর আগে এস্টেটটি কিনেছিলেন। তাঁদের মালিকানায় ভবনটি বড় ধরনের পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যায়। সংবাদ প্রতিবেদনে ২০০৩ সালের একটি বিস্তৃত সংস্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; তবে কাজটির পূর্ণ ব্যয়, পরিকল্পনা ও প্রতিটি পর্যায়ের নথি জনসমক্ষে পাওয়া যায়নি।
সাবেক মালিকেরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্ট্র্যানকালিতে তাঁদের দীর্ঘ সময় কাটানোর জন্য তাঁরা কৃতজ্ঞ এবং নতুন মালিকেরা এস্টেটটির রক্ষণাবেক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চান জেনে আনন্দিত।
ঐতিহাসিক ভবনের ক্ষেত্রে “উন্নয়ন” শব্দটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কোনো স্থাপনা সুরক্ষিত স্থাপনার তালিকায় থাকলে তার বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন সংস্কার, সম্প্রসারণ বা পরিবর্তন সাধারণ বাড়ির মতো করা যায় না। স্থানীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের নিয়ম ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের শর্ত মেনে চলতে হয়। ফলে নতুন মালিকের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও স্ট্র্যানকালির স্থাপত্যগত ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।
মেটার আয়ারল্যান্ড সম্পর্ক
স্ট্র্যানকালি ডাবলিনে মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর থেকে সড়কপথে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। জাকারবার্গ পরিবারের মুখপাত্র বলেছেন, আয়ারল্যান্ড সফরের সময় বাড়িটি তাঁদের একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। পরিবারটি যুক্তরাষ্ট্রেই প্রধানত বসবাস করবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মেটার সম্পর্ক কেবল একটি অফিসের নয়। কম করের পরিবেশ, ইংরেজিভাষী শ্রমবাজার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজারে প্রবেশাধিকার—এই সমন্বয় বহু বছর ধরে দেশটিকে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় কেন্দ্র করে তুলেছে।
মেটার ডাবলিন কার্যক্রম ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন বাজার পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। কাউন্টি মিথের ক্লোনিতে কোম্পানিটির ডেটা সেন্টার এবং কর্কে Reality Labs-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমও রয়েছে।
তবে আয়ারল্যান্ডে কোম্পানিটির কর্মসংস্থানের চিত্র আগের মতো সম্প্রসারণমুখী নয়। দ্য আইরিশ টাইমস-এর মে ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ছাঁটাই সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে মেটার সরাসরি কর্মীসংখ্যা তিন হাজারের কোভিডকালীন সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কমে প্রায় দেড় হাজারে দাঁড়াতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধান নির্বাহীর ব্যক্তিগত এস্টেট ক্রয় ও কোম্পানির কর্মীসংকোচন একই সময়ে ঘটলেও দুটির মধ্যে প্রত্যক্ষ কার্যকারণ সম্পর্ক নেই। একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি লেনদেন; অন্যটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক ব্যয় ও জনবল কৌশলের অংশ। তবু প্রতীকী বৈপরীত্যটি জনআলোচনায় আসা অস্বাভাবিক নয়।
কেন আইরিশ প্রাসাদে ধনীদের আগ্রহ
জাকারবার্গ একমাত্র প্রযুক্তি বা গণমাধ্যম ব্যবসায়ী নন, যিনি আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক এস্টেট কিনেছেন। ব্রিটিশ উদ্যোক্তা জেমস ডাইসন নিকটবর্তী Ballynatray House কিনেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। Stripe-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জন কলিসন, Liberty Media-র জন ম্যালোনসহ আরও কয়েকজন অতি-ধনী উদ্যোক্তার আয়ারল্যান্ডে বড় ঐতিহাসিক সম্পত্তি রয়েছে।
Savills-এর তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের উচ্চমূল্যের কান্ট্রি এস্টেট ক্রেতাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশি। এর পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ রয়েছে: ঐতিহাসিক স্থাপনার সীমিত সরবরাহ, বিস্তীর্ণ জমি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নদী বা সমুদ্রের নৈকট্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে তুলনামূলক সহজ যোগাযোগ।
২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডের প্রধান শহর ও ডাবলিনের M50 বলয়ের বাইরে €১ মিলিয়নের বেশি মূল্যের কান্ট্রি হোম বিক্রির মোট মূল্য ছিল €১৯০.৬ মিলিয়ন—Savills-এর উপাত্তের ভিত্তিতে দ্য আইরিশ টাইমস এই হিসাব প্রকাশ করেছিল। বাজারটি মোট আবাসন খাতের তুলনায় ছোট, কিন্তু আন্তর্জাতিক পুঁজির উপস্থিতি সেখানে স্পষ্ট।
জাকারবার্গ এর আগেও আয়ারল্যান্ডের একটি বড় এস্টেটে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন বলে জানা যায়। ব্যবসায়ী জন ম্যালোন ২০২৫ সালে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন, তিনি কাউন্টি কিলডেয়ারের Castlemartin Estate কেনার জন্য জাকারবার্গের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। সেই দাবির আর্থিক বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।
ঐতিহ্য রক্ষার সুযোগ, ব্যক্তিগতকরণের প্রশ্নও
বিশাল ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ব্যয়বহুল। ছাদ, পাথরের দেয়াল, পুরোনো কাঠামো, জলনিষ্কাশন ও অভ্যন্তরীণ শিল্পকর্ম রক্ষা করতে ধারাবাহিক অর্থায়ন ও বিশেষজ্ঞ দক্ষতা দরকার। পর্যাপ্ত সম্পদসম্পন্ন ব্যক্তিগত মালিক তাই অবহেলিত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
আয়ারল্যান্ড সরকারও ব্যক্তিমালিকানাধীন ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের জন্য অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করে। এই নীতির ভিত্তি হলো—ঐতিহ্য ব্যক্তির মালিকানাধীন হলেও তার সাংস্কৃতিক মূল্য বৃহত্তর সমাজের।
অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা অতি-ধনী বিদেশি ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আবাসে পরিণত হলে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার, স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জাতীয় ঐতিহ্যের বেসরকারিকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। স্ট্র্যানকালি আগে নিয়মিত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না; ফলে এই ক্রয় বিদ্যমান কোনো জনসুবিধা সরাসরি বন্ধ করেছে বলেও বলা যায় না।
আয়ারল্যান্ডের তীব্র আবাসনসংকটের সঙ্গে একটি ৪৪০ একরের ঐতিহাসিক এস্টেটের বাজারকে সরাসরি তুলনা করাও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি সঙ্গত নয়। সাধারণ বাড়ি ও বিরল ঐতিহাসিক প্রাসাদের ক্রেতা, সরবরাহ এবং ব্যবহার ভিন্ন। তবু ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে একটি সাধারণ আবাসিক সম্পত্তির মধ্যম দাম যখন প্রায় €৩৮৭,০০০ এবং বহু পরিবার ক্রয় বা ভাড়ার সামর্থ্য হারাচ্ছে, তখন €২০–৩০ মিলিয়নের একটি অবকাশকালীন আবাস সম্পদের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে ওঠে।
ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়ে বড় গল্প
স্ট্র্যানকালি কেনার ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে এক ধনকুবেরের বিলাসবহুল সম্পত্তি সংগ্রহের গল্প। কিন্তু এর নিচে আরও কয়েকটি স্তর রয়েছে।
এটি দেখায়, প্রযুক্তি খাতের বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ এখন কীভাবে জমি, গোপনীয়তা এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের মালিকানায় রূপান্তরিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দীর্ঘ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পত্তির মানচিত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অবশ্য ক্রয়ের অঙ্ক নয়। পরীক্ষা হবে—প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এই ভবন কীভাবে সংরক্ষিত হয়, প্রাকৃতিক পরিবেশে সম্ভাব্য পরিবর্তন কতটা দায়িত্বশীল হয় এবং একটি ব্যক্তিগত এস্টেট হয়েও স্থানীয় ইতিহাসের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা অক্ষুণ্ণ থাকে।
মালিক বদলেছে। কিন্তু স্ট্র্যানকালির ইতিহাস এখনো শেষ হয়নি।
আমরা যা জানি / যা এখনো অস্পষ্ট
আমরা যা জানি
মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান স্ট্র্যানকালি ক্যাসল এবং প্রায় ৪৪০ একরের এস্টেট কিনেছেন।
তাঁদের প্রতিনিধির বক্তব্যে ক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
লেনদেনটি প্রকাশ্য বাজারের বাইরে সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমান প্রাসাদটি আনুমানিক ১৮৩০ সালে নির্মিত গথিক রিভাইভাল ধারার একটি কান্ট্রি হাউস।
ভবনটি আয়ারল্যান্ডের স্থাপত্য ঐতিহ্য তালিকায় নথিভুক্ত এবং Waterford-এর সুরক্ষিত স্থাপনার রেকর্ডে রয়েছে।
পরিবারটি আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এস্টেটটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে।
যা এখনো অস্পষ্ট
প্রকৃত বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করা হয়নি; €২০–৩০ মিলিয়ন কেবল সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়ন।
সরকারি Property Price Register-এ লেনদেনের বিবরণ এখনো দৃশ্যমান নয়।
মালিকানা সরাসরি দম্পতির নামে, নাকি কোনো কোম্পানি বা ট্রাস্টের মাধ্যমে—তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
ভবিষ্যৎ সংস্কার, নিরাপত্তা অবকাঠামো বা ভূমি ব্যবস্থাপনার পূর্ণ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
এস্টেটে জনসাধারণের কোনো প্রবেশাধিকার থাকবে কি না, সে বিষয়েও ঘোষণা নেই।
উৎস ও যাচাই নোট
প্রতিবেদনটি ২৩ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ। ক্রয়ের সত্যতা জাকারবার্গের প্রতিনিধির বক্তব্য এবং দ্য আইরিশ টাইমস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান-এর স্বাধীন প্রতিবেদন দিয়ে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। স্থাপত্য ও সুরক্ষিত স্থাপনার তথ্য আয়ারল্যান্ডের সরকারি National Inventory of Architectural Heritage এবং Waterford City and County Council-এর নথি থেকে যাচাই করা হয়েছে। প্রকৃত বিক্রয়মূল্য প্রকাশিত না হওয়ায় €২০–৩০ মিলিয়নকে নিশ্চিত মূল্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রধান সূত্র
#MarkZuckerberg #StrancallyCastle #Meta #Ireland #PriscillaChan #HistoricArchitecture #Waterford #TechBillionaires




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।