ক্যামেরার বাইরে ‘মিস্টার বিস্ট’: ব্যক্তিগত দ্বীপে থিয়া বুইসেনকে বিয়ে, আলোচনায় ভালোবাসা ও ডিজিটাল সাম্রাজ্যের বৈপরীত্য

পাঁচশ মিলিয়নের বেশি অনুসারীর সামনে জীবন উন্মুক্ত রেখেও বিয়েটি আড়ালে রাখলেন জিমি ডোনাল্ডসন। রিচার্ড ব্র্যানসনের নেকার আইল্যান্ডে ঘনিষ্ঠ ৭০ অতিথির উপস্থিতিতে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন তাই শুধু তারকাবিয়ে নয়—এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতি এবং ‘মনোযোগের অর্থনীতি’ নিয়ে নতুন আলোচনারও উপলক্ষ।
মাইন আহমেদ।বিনোদন ও প্রযুক্তি ডেস্ক | সাপ্তাহিক ক্যালিফোর্নিয়ার চিঠি
যে মানুষটি মরুভূমিতে শহর বানিয়ে, দ্বীপ উপহার দিয়ে, প্রতিযোগীদের কোটি ডলারের পুরস্কারের সামনে দাঁড় করিয়ে কিংবা বিপুল অর্থব্যয়ে অসম্ভব সব আয়োজন করে ইন্টারনেটকে বিস্মিত রাখেন—নিজের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তটি তিনি পালন করলেন প্রায় নিঃশব্দে।
বিশ্বজুড়ে MrBeast নামে পরিচিত মার্কিন ইউটিউবার জেমস স্টিফেন “জিমি” ডোনাল্ডসন দক্ষিণ আফ্রিকার কনটেন্ট নির্মাতা, গেমার ও লেখক থিয়া বুইসেনকে বিয়ে করেছেন। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের নেকার আইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ঘনিষ্ঠ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৭০ জন আত্মীয় ও বন্ধু। দ্বীপটির মালিক ব্রিটিশ উদ্যোক্তা রিচার্ড ব্র্যানসন।
১৪ জুলাই ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী উদ্যাপনে ছিল স্নরকেলিং, কাইটসার্ফিং, দ্বীপের প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবার–বন্ধুদের নিয়ে একান্ত নৈশভোজ। তবে আয়োজনের কেন্দ্রে ছিল একটি অপেক্ষাকৃত ছোট ও ব্যক্তিগত বিবাহ অনুষ্ঠান—মিস্টার বিস্টের সাধারণ ভিডিওগুলোর বিপুল আকার, প্রতিযোগিতা ও ক্যামেরানির্ভর নাটকীয়তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের ছবি প্রকাশ করে ডোনাল্ডসন লেখেন, তিনি তাঁর “MrsBeast”-কে খুঁজে পেয়েছেন এবং দিনটি ছিল তাঁর জীবনের সেরা দিন। থিয়াও ইনস্টাগ্রামে নিজের নাম পরিবর্তন করে Thea Donaldson করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আড়ম্বর ছিল, কিন্তু প্রদর্শন ছিল না
বিয়েকে “ছোট” বলা হলেও সেটি সাধারণ অর্থে সাদামাটা ছিল না। স্থানটি বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিগত দ্বীপ; পুরো আয়োজন চলেছে প্রায় এক সপ্তাহ। অতিথিদের জন্য ছিল জলক্রীড়া, বিনোদন, বিশেষ খাবার এবং দ্বীপজীবনের অভিজ্ঞতা।
থিয়া বুইসেন পরেছিলেন Nicole + Felicia Couture-এর কাস্টম তৈরি পোশাক। ডোনাল্ডসনের পরনে ছিল রালফ লরেনের টাক্সেডো। অভ্যর্থনায় পরিবেশন করা হয় সুশি, ওয়াগিউ বিফ ও থিয়ার প্রিয় ক্যারট কেক। নবদম্পতির প্রথম নাচের সংগীত ছিল লেডি গাগা ও ব্রুনো মার্সের জনপ্রিয় গান Die With a Smile।
তবু এই বিলাসিতার মধ্যেও অনুষ্ঠানটির বিশেষত্ব অন্য জায়গায়—বিয়েকে মিস্টার বিস্টের নতুন কোনো “কনটেন্ট প্রজেক্টে” পরিণত করা হয়নি। বাইরের ক্যামেরা, পৃষ্ঠপোষকের দৃশ্যমান প্রচারণা কিংবা পুরস্কারভিত্তিক নাটকীয় প্রতিযোগিতা ছিল না।
ডোনাল্ডসন ও বুইসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা এমন একটি আয়োজন চেয়েছিলেন যেখানে ঘনিষ্ঠজনেরা সত্যিকার অর্থে পরস্পরের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। থিয়া সপ্তাহটিকে ভালোবাসা ও মানবিক সংযোগে পূর্ণ “স্বর্গীয়” অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় আকস্মিক পরিচয়
তাঁদের সম্পর্কের শুরু ২০২২ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে পারস্পরিক পরিচিত একজনের মাধ্যমে থিয়ার সঙ্গে দেখা হয় ডোনাল্ডসনের। প্রথম সাক্ষাতের পর অনলাইনে যোগাযোগ, তারপর দূরত্বের সম্পর্ক—ধীরে ধীরে সেই পরিচয় প্রেমে রূপ নেয়।
থিয়া পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন হয়তো আত্মকেন্দ্রিক বা তারকা-সুলভ হবেন। কিন্তু ব্যক্তিগত আলাপে ডোনাল্ডসনকে তাঁর কাছে বিনয়ী, মনোযোগী ও বাস্তববাদী মনে হয়েছিল।
২০২৪ সালের বড়দিনে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে থিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ডোনাল্ডসন। ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁরা বাগদানের খবর প্রকাশ করেন। এক বছর পর সেই সম্পর্ক পূর্ণতা পেল ক্যারিবীয় দ্বীপের অনুষ্ঠানে।
‘মিস্টার বিস্টের স্ত্রী’ পরিচয়ের বাইরে থিয়া কে?
তারকাদের বিয়ের সংবাদে প্রায়ই নারীর পরিচয় স্বামীর খ্যাতির ছায়ায় হারিয়ে যায়। থিয়া বুইসেনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন শিরোনাম তাঁকে শুধু “MrBeast-এর স্ত্রী” হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু তাঁর নিজস্ব পরিচয় ও কাজ যথেষ্ট বিস্তৃত।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া থিয়া অনলাইনে TheaBeasty নামে পরিচিত। তিনি গেমিং কনটেন্ট নির্মাণ, টুইচ স্ট্রিমিং ও ই-স্পোর্টস ধারাভাষ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর আইন, মনোবিজ্ঞান ও নিউরোসাইকোলজি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা রয়েছে। তিনি তরুণ পাঠকদের জন্য লেখা ফ্যান্টাসি উপন্যাস The Marked Children-এর লেখক এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ই-স্পোর্টস সংগঠন Nixuh-এর সহ-মালিক হিসেবেও কাজ করেছেন।
এই শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মিস্টার বিস্টের বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে তাঁদের সম্পর্কের সংবাদে ক্ষমতার ভারসাম্য স্বাভাবিকভাবেই একদিকে ঝুঁকে পড়ে। থিয়াকে কেবল ডিজিটাল সম্রাটের জীবনসঙ্গী হিসেবে দেখলে একজন স্বতন্ত্র লেখক, গবেষণামনস্ক কনটেন্ট নির্মাতা এবং ব্যবসায়ীর পরিচয় ঢাকা পড়ে যায়।
কেন এই বিয়ে এত বড় সংবাদ?
কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তির বিয়ে সংবাদ হওয়া নতুন নয়। কিন্তু মিস্টার বিস্ট প্রচলিত অর্থে শুধু একজন তারকা নন। তিনি এমন এক বৈশ্বিক মিডিয়া কাঠামোর প্রতিনিধি, যেখানে একজন ব্যক্তি নিজেই টেলিভিশন নেটওয়ার্ক, বিজ্ঞাপন সংস্থা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, বিপণন প্ল্যাটফর্ম এবং ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন।
২০২৬ সালের ১২ জুন তাঁর মূল ইউটিউব চ্যানেল প্রথম ব্যক্তিনির্ভর চ্যানেল হিসেবে ৫০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার অতিক্রম করে। ইউটিউব নিজেই এই ঘটনাকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে ঘোষণা করে। জুলাইয়ের শেষ দিকে বিভিন্ন লাইভ পরিসংখ্যানে চ্যানেলটির অনুসারী ৫০৯ মিলিয়নের কাছাকাছি দেখা যাচ্ছে।
এই সংখ্যা শুধু জনপ্রিয়তার পরিমাপ নয়। এটি একটি ছোট দেশের জনসংখ্যার বহু গুণ বড় দর্শকসমাজ। তাঁর প্রতিটি ছবি, সম্পর্ক, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত ঘোষণা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সংবাদ হয়ে যায়।
তাই তাঁর বিয়ের ছবি একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং বিশ্বব্যাপী বিতরণযোগ্য মিডিয়া সম্পদ। এখানে ভালোবাসা সত্য হতে পারে, আবার সেই ভালোবাসার প্রকাশ অনিবার্যভাবে ব্র্যান্ডের অংশও হয়ে যায়।
মনোযোগের অর্থনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বাজারমূল্য
মিডিয়া চিন্তাবিদ টিম উ তাঁর The Attention Merchants বইয়ে দেখিয়েছেন, আধুনিক গণমাধ্যমের সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য তথ্য নয়—মানুষের মনোযোগ। আর মিস্টার বিস্ট এই মনোযোগের অর্থনীতির সম্ভবত সবচেয়ে দক্ষ নির্মাতাদের একজন।
তাঁর কনটেন্টের কেন্দ্রীয় সূত্র খুব জটিল নয়: এমন একটি প্রশ্ন বা দৃশ্য তৈরি করা, যা দেখে মানুষ ক্লিক না করে থাকতে পারে না। সবচেয়ে দামি বাড়ি, সবচেয়ে বড় পুরস্কার, সবচেয়ে দীর্ঘ প্রতিযোগিতা কিংবা অসম্ভব পরিস্থিতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ—সবকিছুতেই রয়েছে সীমা অতিক্রমের প্রতিশ্রুতি।
দ্য গার্ডিয়ান তাঁকে “attention economy”-র মোৎজার্ট হিসেবে বর্ণনা করেছে—এমন একজন নির্মাতা, যিনি ইউটিউবের অ্যালগরিদম, দর্শকের কৌতূহল ও আবেগকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে ব্যবহার করতে জানেন। একই বিশ্লেষণে অবশ্য প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মানুষের অভাব, স্বপ্ন ও দুর্বলতাকে দ্রুতগতির বিনোদনে রূপান্তর করলে মানবিক গল্পগুলো কি শেষ পর্যন্ত ক্ষণস্থায়ী দৃশ্যপটে পরিণত হয় না?
এই পটভূমিতে তাঁর ব্যক্তিগত বিয়ে ভিডিও না করার সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। যে ব্যক্তি দর্শকের মনোযোগ থেকে ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, তিনিই যেন একটি সীমানা টেনে বলেছেন—সব মুহূর্ত বাজারে তোলা হবে না।
তবে সমালোচকেরা পাল্টা বলতে পারেন, বিয়ের ছবি ও এক্সক্লুসিভ সংবাদ প্রকাশও এক ধরনের নিয়ন্ত্রিত প্রচার। পার্থক্য শুধু এটুকু—এখানে দীর্ঘ ভিডিওর বদলে ব্যক্তিগত জীবনের নির্বাচিত কয়েকটি দৃশ্য জনসমক্ষে আনা হয়েছে। অর্থাৎ গোপনীয়তা সম্পূর্ণ নয়; বরং প্রকাশের কর্তৃত্বটি নিজের হাতে রাখা হয়েছে।
‘মানবিকতা’ নাকি মানবিকতার বিনোদন?
মিস্টার বিস্টের জনপ্রিয়তার বড় অংশ গড়ে উঠেছে অর্থ বিতরণ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার অস্ত্রোপচার, খাদ্য বিতরণ, ঘর নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ, সমুদ্র পরিষ্কার এবং নিরাপদ পানির প্রকল্পে অর্থ সংগ্রহ করেছেন।
২০২৫ সালে মার্ক রোবারসহ বিভিন্ন নির্মাতাকে নিয়ে চালু করা TeamWater প্রচারণার লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে নিরাপদ পানির প্রকল্পের জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা। রকফেলার ফাউন্ডেশনও তরুণদের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে যুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর যোগাযোগক্ষমতার প্রশংসা করেছে।
সমর্থকদের যুক্তি স্পষ্ট: একজন মানুষ যদি বিনোদনের আয় ব্যবহার করে ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেন, রোগীর চিকিৎসা করান বা পানির ব্যবস্থা করেন, তবে সাহায্যটি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে কি না—সেটি গৌণ। ভিডিও না হলে অর্থ আসবে না; অর্থ না এলে পরবর্তী মানুষটিকে সাহায্য করাও সম্ভব হবে না।
সমালোচকদের প্রশ্নও উপেক্ষা করা যায় না: সাহায্যপ্রাপ্ত মানুষের দারিদ্র্য, শারীরিক অসুস্থতা বা অসহায়ত্ব যখন থাম্বনেইল ও দর্শক ধরে রাখার কৌশলে ব্যবহৃত হয়, তখন সহমর্মিতা কি একধরনের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়?
ফরাসি দার্শনিক গি দ্য বোর্দ তাঁর The Society of the Spectacle গ্রন্থে লিখেছিলেন—আধুনিক সমাজে জীবনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ক্রমে প্রতিনিধিত্ব ও দৃশ্যের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হয়। মিস্টার বিস্টের জগতে একটি মানবিক কাজ একই সঙ্গে বাস্তব সাহায্য, আবেগঘন গল্প, বিজ্ঞাপনযোগ্য পণ্য এবং অ্যালগরিদমিক সাফল্য—সবই।
সত্য সম্ভবত দুই প্রান্তের মাঝখানে। তাঁর প্রকল্পে বাস্তব মানুষ বাস্তব উপকার পেয়েছেন; আবার সেই উপকার তাঁর ব্র্যান্ডের অর্থনৈতিক শক্তিও বাড়িয়েছে। জনকল্যাণ ও ব্যবসা এখানে পরস্পরের বিরোধী নয়—বরং একই চক্রের অংশ।
সাফল্যের পেছনে বিতর্কও আছে
অতুলনীয় জনপ্রিয়তার পাশাপাশি ডোনাল্ডসনের প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে।
২০২৪ সালে তাঁর বিশাল প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান Beast Games-এর প্রাথমিক ধারণপর্বে কয়েকজন প্রতিযোগী পর্যাপ্ত খাবার, পানি ও ওষুধ না পাওয়া এবং আহত হওয়ার অভিযোগ করেন। পরে পাঁচজন অংশগ্রহণকারী মামলা করে অনিরাপদ কর্মপরিবেশ, যৌন হয়রানি এবং পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনেন। অভিযোগগুলো আদালতে উত্থাপিত হলেও সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; ডোনাল্ডসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
একই সময় তাঁর পুরোনো অনলাইন কনটেন্টে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়ও সামনে আসে। ডোনাল্ডসন স্বীকার করেন, কিশোর বয়সে তিনি অনুপযুক্ত ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং সে সময়ের আচরণের জন্য অনুতপ্ত।
কর্মক্ষেত্র নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তে যৌন অসদাচরণের নির্দিষ্ট অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত শেষে কিছু কর্মীকে বরখাস্ত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা বলা হয়।
এখানে ভারসাম্য জরুরি। বিপুল জনপ্রিয়তা কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে তোলে না। একইভাবে অভিযোগ প্রকাশিত হওয়া মাত্রই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করাও সাংবাদিকতার কাজ নয়। মিস্টার বিস্টের জনকল্যাণমূলক অবদান যেমন নথিবদ্ধ করা উচিত, তেমনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সেগুলোর জবাবও সমান গুরুত্বে তুলে ধরা প্রয়োজন।
ব্যক্তিগত দ্বীপে ‘সাধারণ’ বিয়ে—বৈপরীত্য কোথায়?
নেকার আইল্যান্ডে বিয়ের আয়োজনকে অনেক সংবাদমাধ্যম “intimate” বা ঘনিষ্ঠ বলেছে। শব্দটি অতিথির সংখ্যা ও ব্যক্তিগত পরিবেশের ক্ষেত্রে যথার্থ। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এটি নিঃসন্দেহে বিলাসবহুল আয়োজন।
এখানেই আধুনিক তারকা সংস্কৃতির ভাষাগত বৈপরীত্যটি স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের কাছে ব্যক্তিগত দ্বীপে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান কল্পনাতীত; অথচ বৈশ্বিক সুপার-ইনফ্লুয়েন্সারের পরিসরে ৭০ অতিথির উপস্থিতি “ছোট” আয়োজন।
এই বৈপরীত্য নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। বিশেষ করে এমন একজন তারকার ক্ষেত্রে, যার কনটেন্টে প্রায়ই অর্থনৈতিক বৈষম্যকে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের নাটকে রূপ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, নিজের উপার্জিত অর্থে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করার অধিকারও তাঁর রয়েছে। বিয়েটি জনকল্যাণ প্রকল্প নয়, সামাজিক সমতার ঘোষণাও নয়। তাই প্রতিটি ব্যক্তিগত বিলাসিতাকে নৈতিক অপরাধে পরিণত করা যুক্তিসঙ্গত হবে না।
প্রশ্নটি অনুষ্ঠান কত ব্যয়বহুল ছিল—শুধু সেটি নয়। বরং প্রশ্ন হলো, একজন প্রভাবশালী মানুষ তাঁর সম্পদ, ক্ষমতা ও দর্শকসমাজের সঙ্গে কতটা স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক বজায় রাখছেন।
ভালোবাসা কি অ্যালগরিদমের বাইরে থাকতে পারে?
মিস্টার বিস্টের বিয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত পোশাক, দ্বীপ বা অতিথির সংখ্যা নয়। বরং সেই অস্বাভাবিক দৃশ্য—একজন মানুষ, যিনি প্রায় প্রতিটি মুহূর্তকে ভাইরাল গল্পে পরিণত করতে পারেন, অন্তত কিছু সময় ক্যামেরাকে বাইরে রেখেছেন।
কিন্তু ডিজিটাল যুগে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জীবন আদৌ সম্ভব কি না, সেটিও প্রশ্ন। বিয়ের ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষাধিক প্রতিক্রিয়া, অনলাইন সংবাদ, ভিডিও বিশ্লেষণ এবং ব্র্যান্ডমূল্য তৈরি হয়েছে। একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
তবু ছবি ও প্রচারণার স্তরের নিচে বিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই মানুষের প্রতিশ্রুতি। তাঁদের পরিচয়, সম্পর্ক, দূরত্ব, পরিবার এবং একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার ইচ্ছা—এসব কোনো সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না।
মিস্টার বিস্টের জীবনে হয়তো এটাই সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ: এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি আনন্দের সাফল্য ভিউ দিয়ে পরিমাপ করা হবে না; যেখানে ভালোবাসার মূল্য থাম্বনেইল, স্পনসর বা অ্যালগরিদম নির্ধারণ করবে না।
যিনি পৃথিবীকে বিস্মিত করার ব্যবসা করেন, তাঁর জন্য হয়তো সবচেয়ে বড় বিস্ময় হলো—কখনো কখনো জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তটি দর্শকের জন্য নয়, কেবল দুজন মানুষের জন্য।
#MrBeast #TheaBooysen #JimmyDonaldson #MrBeastWedding #CreatorEconomy #YouTube #সাপ্তাহিকক্যালিফোর্নিয়ারচিঠি




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।