নেপালে হিমবাহধস ও বন্যায় ৩৫৯ নিহত, নিখোঁজ সহস্রাধিক

নেপাল–তিব্বত সীমান্তের উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা বরফ, শিলা, পানি ও কাদার স্রোত জনপদ, সড়ক, সেতু ও সীমান্ত অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়েছে। নেপালে অন্তত ৩৫৯ এবং তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুই পাশে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে বিদেশি নাগরিকদের হিসাবসহ বহু তথ্য এখনো যাচাই চলছে।
নেপাল প্রতিনিধির পাঠানো পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন। আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
মাত্র কয়েক মিনিটে হিমালয়ের একটি নদী যেন রূপ নিয়েছিল চলমান ধ্বংসস্তূপে। বরফ, বিশাল পাথর, কাদা ও পানি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে এসে গ্রাস করে সীমান্তবন্দর, গ্রাম, পর্যটনকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ স্থাপনা। ঘরবাড়ির ভেতর আশ্রয় নেওয়ারও সময় পাননি বহু মানুষ।
২৬ আগস্ট সকালে নেপাল–তিব্বত সীমান্তে শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ে নেপালে অন্তত ৩৫৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ। সীমান্তের চীনা অংশ—তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই ভূখণ্ড মিলিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা তাই অন্তত ৩৬২।
দুই পাশে এখনো ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আল-জাজিরা। তবে উদ্ধারকাজ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে একই ব্যক্তির নাম একাধিক তালিকায় থাকা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং পর্যটকদের সীমান্ত অতিক্রমের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকার কারণে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।
নেপালের দুর্গম উপত্যকা থেকে সমতলের নদী পর্যন্ত মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের চিতওয়ান জেলাতেই নদী থেকে ১০৩টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসক গণেশ আরিয়াল। স্থানীয় হাসপাতাল ও মর্গে জায়গা না থাকায় অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করে মরদেহ শনাক্তকরণ ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। রয়টার্স
বরফের সঙ্গে নেমে এসেছিল একটি পাহাড়
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ভূমিকম্প মনে করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা—ইউএসজিএসও প্রথমে যে ভূকম্পন শনাক্ত করেছিল, পরে সেটিকে বড় ধরনের ভূমিধসের সিসমিক সংকেত হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্থাৎ মাটি কেঁপেছিল ভূগর্ভস্থ ফল্টের কারণে নয়; বিপুল পরিমাণ শিলা ও বরফের পতনেই সেই কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল।
উপগ্রহচিত্র, ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য এবং ঘটনাস্থলের ভিডিও বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক ধারণা, অত্যন্ত উঁচুতে একটি বরফ বা আইস অ্যাভালাঞ্চ শুরু হয়। সেটি পাহাড়ি ঢাল থেকে শিলা ও হিমবাহের মোরেইন—অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আলগা পাথর ও ধ্বংসাবশেষ—টেনে নিয়ে একটি ভয়াবহ ডেব্রি ফ্লো বা ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হয়।
চীনা সরকারি ভূতত্ত্ববিদ গুও ঝাওচেংয়ের হিসাবে, স্রোতটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ মিটার গতিতে অন্তত ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটারের সমান। ফলে নিচের জনপদে কার্যকর সতর্কতা পৌঁছানো এবং মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।
তবে এটিকে শুধু “হিমবাহ গলে বন্যা” বলা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্পূর্ণ। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণ বরফধস, শিলাধস ও ধ্বংসাবশেষের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে। ভূমিধস বা বরফধসের তাৎক্ষণিক কারণ—তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন, অস্থিতিশীল শিলা, পারমাফ্রস্ট গলন, পূর্ববর্তী বৃষ্টিপাত, নাকি একাধিক কারণের সমন্বয়—তা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করা যাবে না।
নতুন বাঁধ, দ্বিতীয় বন্যার ভয়
প্রথম স্রোত নেমে যাওয়ার পরও বিপদ শেষ হয়নি। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ ভোটেকোশী নদীর একটি অংশ আটকে দিয়েছে। সেখানে অস্থায়ী হ্রদের মতো পানি জমছে।
প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এ ধরনের বাঁধ অত্যন্ত অনিশ্চিত। পানি বাড়তে থাকলে বাঁধটি হঠাৎ ভেঙে আরও একটি আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। নদীর নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ ও উদ্ধারকারীদের তাই নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের কাছে এটি একটি পরিচিত “ক্যাসকেডিং হ্যাজার্ড”—একটি বিপদ থেকে আরেকটি বিপদের জন্ম। প্রথমে বরফ বা শিলাধস, তারপর নদী অবরুদ্ধ হওয়া, এরপর বাঁধ ভেঙে দ্বিতীয় বন্যা—হিমালয়ের সংকীর্ণ উপত্যকায় এই ধারাবাহিকতা অল্প সময়ের মধ্যে বহু দূর পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটাতে পারে।
পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের পথেই আঘাত
দুর্যোগটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাপথে আঘাত করেছে, যা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুকে তিব্বতের লাসার সঙ্গে যুক্ত করে। গিরং সীমান্তবন্দর দিয়ে পর্যটক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং কৈলাস–মানসসরোবরগামী তীর্থযাত্রীরা চলাচল করেন।
রয়টার্সের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, নেপালে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ২৮৮ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন। নেপালের কিছু স্থানীয় তালিকায় মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা ৬৫ বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এখনো নিখোঁজ মার্কিনিদের নির্ভুল সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি।
আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মার্কিন নিখোঁজের সংখ্যা ৩৩, ৪৭, ৬৩ ও ৬৫—ভিন্ন ভিন্নভাবে এসেছে। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা হালনাগাদ, ট্যুর অপারেটরদের অসম্পূর্ণ তথ্য এবং নেপাল ও তিব্বতের পৃথক হিসাবের সম্ভাব্য পুনরাবৃত্তি। ফলে কোনো একটি সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ABC News
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ; তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি। নেপালে এখনো প্রায় ৫৫০ বিদেশির সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুধন গুরুং জানিয়েছেন। তবে দুই দেশের তালিকায় সীমান্ত পার হওয়া কোনো কোনো পর্যটকের নাম পুনরাবৃত্ত হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা ভূগোল
হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জীবিতদের সন্ধান এবং বিচ্ছিন্ন জনপদে খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানো হচ্ছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ভেঙে যাওয়া সেতু, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কাদায় ঢাকা উপত্যকা উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ত্রিশূলী অঞ্চলে ১০০ ভারতীয় দর্শনার্থী—যাঁদের বেশির ভাগ তীর্থযাত্রী—এবং ২৫ চীনা শ্রমিককে খুঁজে পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়লেও নিখোঁজদের একটি বড় অংশের ভাগ্য অজানা।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস বলেছে, কয়েকটি গ্রাম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়েছে এবং অনেক বসতি স্থলপথে বিচ্ছিন্ন। সে কারণে দুর্যোগের পূর্ণ পরিসর এখনো বোঝা সম্ভব হয়নি।
এই অনিশ্চয়তা শুধু একটি সংখ্যা নিয়ে নয়। প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর স্থায়ী বাসিন্দা, অস্থায়ী শ্রমিক, পুলিশ ও সেনাসদস্য এবং নিবন্ধনহীন যাত্রীদের পূর্ণ তালিকা তৈরি না হওয়ায় স্থানীয় নিখোঁজের সংখ্যাও অসম্পূর্ণ।
সীমান্ত অবকাঠামো ও জননিরাপত্তার প্রশ্ন
গিরং বন্দর চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড নেটওয়ার্ক এবং নেপাল–চীন বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। গত দশকে সেখানে লজিস্টিক পার্ক, গাড়ির টার্মিনাল, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু প্রকল্পগুলো নির্মাণের সময় হিমবাহ, ভূমিধস এবং সম্ভাব্য নদী-অবরোধের ঝুঁকি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল—বিপর্যয়ের পর সেই প্রশ্ন সামনে আসছে।
পার্বত্য অঞ্চলে অবকাঠামো প্রয়োজন, কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ নদীখাত বা পুরোনো ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মাণ মানুষের বিপদ বাড়াতে পারে। পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, পাহাড়ের ঢালের স্থিতিশীলতা পরীক্ষা, সীমান্তপারের আগাম সতর্কতা এবং জরুরি বহির্গমনপথ না থাকলে উন্নয়নই দুর্যোগে মৃত্যুর মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
এই অঞ্চলে তথ্য আদান-প্রদর্শনও রাষ্ট্রীয় সীমান্তের মধ্যে আটকে থাকে। অথচ পানি, হিমবাহ ও ভূমিধস কোনো রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না। উজানের চীনা ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার মধ্যে নেপালের গ্রামে আঘাত করতে পারে। তাই নদীর প্রবাহ, উপগ্রহচিত্র ও ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিনিময়ের একটি বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা এখন জননিরাপত্তার মৌলিক প্রয়োজন।
জলবায়ু পরিবর্তন: সম্পর্ক আছে, সরল সিদ্ধান্ত নয়
একটি নির্দিষ্ট বরফধসকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলতে হলে ঘটনাভিত্তিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কিন্তু বৃহত্তর ঝুঁকির প্রবণতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সতর্কতা স্পষ্ট।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট—আইসিমোডের গবেষণা বলছে, হিন্দুকুশ–হিমালয়ের হিমবাহ, তুষার ও পারমাফ্রস্ট মানবসৃষ্ট উষ্ণায়নের প্রভাবে দ্রুত ও অনেক ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বরফ ও স্থায়ীভাবে জমাট মাটির বন্ধন দুর্বল হলে পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হতে পারে; হিমবাহ হ্রদের সংখ্যা ও আয়তন বাড়লে আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
আইসিমোডের হিসাবে, হিন্দুকুশ–হিমালয় অঞ্চলে ২৫ হাজারের বেশি হিমবাহ হ্রদ রয়েছে। নেপাল, তিব্বত ও ভারতের কোশী, গণ্ডকী ও কর্ণালী অববাহিকায় অন্তত ৪৭টি হ্রদকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংস্থাটি চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ এই অঞ্চলে গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড বা হিমবাহ হ্রদভাঙা বন্যার ঝুঁকি তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে ২০৫০ সালের কাছাকাছি। ICIMOD
এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ভূমিধসের একমাত্র কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। বরং উষ্ণায়ন এমন একটি পটভূমি তৈরি করছে, যেখানে অস্থিতিশীল বরফ, পারমাফ্রস্ট, ভারী বৃষ্টি ও দুর্বল শিলাস্তর পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বড় বিপর্যয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
পুরোনো সতর্কতা, পুনরাবৃত্ত বিপর্যয়
২০১৫ সালের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নেপালে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সেই বিপর্যয় দেশটির পাহাড়ি অবকাঠামো, জরুরি সেবা ও উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা উন্মোচন করেছিল।
২০২১ সালে মেলামচি নদীর আকস্মিক বন্যা এবং ২০২৪ সালে খুম্বু অঞ্চলের থামে গ্রামে হিমবাহ হ্রদভাঙা বন্যা একই ধরনের নতুন সতর্কতা দেয়। থামের বন্যায় বাড়ি, হোটেল, বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছিল। পরে উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, গ্রামের উজানের ছোট হিমবাহ হ্রদগুলো কয়েক বছর ধরে আকার পরিবর্তন করছিল।
এবারের বিপর্যয় আগের ঘটনাগুলোর চেয়ে অনেক বড়। তবে মূল শিক্ষা একই—হিমালয়ের ঝুঁকি শুধু পাহাড়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। উজানের একটি বরফধস নিচের জনপদ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়ক, সীমান্তবাণিজ্য ও শত কিলোমিটার দূরের সমতল পর্যন্ত আঘাত করতে পারে।
উদ্ধার শেষ হওয়ার পর তাই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ করলেই চলবে না। কোথায় বসতি ও পর্যটনকেন্দ্র গড়া নিরাপদ, সীমান্তের দুই পাশে কীভাবে তথ্য ভাগ করা হবে, আর সতর্কতা পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে পরবর্তী বিপর্যয়ে কত মানুষ বাঁচবেন।
যা নিশ্চিতভাবে জানা গেছে
২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নেপালে অন্তত ৩৫৯ এবং তিব্বতে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
বিপর্যয়টি ২৬ আগস্ট নেপাল–তিব্বত সীমান্তের উঁচু পাহাড়ে সংঘটিত বরফ ও শিলাধসের পর শুরু হয়।
ধ্বংসাবশেষের স্রোত প্রায় ৫০ মিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে ২০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে বলে প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে।
দুই পাশে ১ হাজারের বেশি এবং কয়েকটি সর্বশেষ হিসাবে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ।
নদীতে ধ্বংসাবশেষ জমে নতুন হ্রদ তৈরি হওয়ায় দ্বিতীয় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, পর্যটক ও কৈলাসগামী তীর্থযাত্রী রয়েছেন।
যা এখনো স্পষ্ট নয়
নিখোঁজ মানুষের মোট সংখ্যা এবং দুই দেশের তালিকায় পুনরাবৃত্ত নাম রয়েছে কি না।
নিখোঁজ মার্কিন নাগরিকের নির্ভুল সংখ্যা—বিভিন্ন পর্যায়ে ৪৭, ৬৩ ও ৬৫ বলা হয়েছে।
কতজন নিখোঁজ ব্যক্তি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নিরাপদে আছেন।
বরফ ও শিলাধসের তাৎক্ষণিক ট্রিগার কী ছিল।
জলবায়ু পরিবর্তন ঘটনাটির সম্ভাবনা বা তীব্রতা কতটা বাড়িয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ আর্থিক পরিমাণ এবং বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোর প্রকৃত মানবিক পরিস্থিতি।
সূত্র ও যাচাই নোট
এই প্রতিবেদনটি ২৭ আগস্ট ২০২৬, বেলা ১টা ২৩ মিনিট ইউটিসি পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। মৃত্যুর সংখ্যা নেপাল পুলিশের বরাতে রয়টার্সসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় উৎসভেদে পার্থক্য থাকায় সংখ্যাগুলোকে প্রাথমিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জলবায়ু ও হিমবাহ-ঝুঁকির প্রেক্ষাপটের জন্য আইসিমোডের গবেষণা ব্যবহার করা হয়েছে; নির্দিষ্ট ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে উপস্থাপন করা হয়নি।
প্রধান উৎস
#NepalFloods #HimalayanDisaster #GlacierCollapse #ClimateRisk #Nepal #Tibet #BreakingNews #ক্যালিফোর্নিয়ারচিঠি




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।