কুইন্সে ICE অভিযানের পর ফাঁকা শ্রমবাজার

নিউইয়র্কের উডসাইডে ১ সেপ্টেম্বর ICE অভিযান চালানোর কথা সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রায় আটজনকে আটকের কথা বললেও পূর্ণ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি; অভিযানের পর প্রতিদিনের দিনমজুরের জমায়েতও নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
ফাঁকা হয়ে গেছে কাজের অপেক্ষার জায়গা
কুইন্সের উডসাইডে জেনারেল হার্ট প্লেগ্রাউন্ডের পাশে ভোরে অভিবাসী দিনমজুরেরা কাজের আশায় জড়ো হতেন। কেউ ছাদ মেরামত, কেউ রং, ধ্বংসকাজ বা মালপত্র সরানোর কাজ করতেন। কোনো ঠিকাদার বা বাড়ির মালিক গাড়ি থামালে সেদিনের কাজ মিলত; না হলে অপেক্ষাই হয়ে থাকত দিনের প্রধান কাজ।
Documented-এর মাঠপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা অভিযান চালান। ICE-এর মুখপাত্র অভিযানটি নিশ্চিত করলেও নির্বিচার আটকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংস্থাটি আটক ব্যক্তিদের পূর্ণ সংখ্যা, পরিচয় বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার তালিকা প্রকাশ করেনি।
৩ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকেরা দেখেন, স্বাভাবিক ভিড়ের বদলে সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক রয়েছেন। ২৩ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ৬৭ বছর বয়সী মেক্সিকান অভিবাসী অ্যাঞ্জেল ভালদেজ বলেন, এত কম মানুষ তিনি আগে দেখেননি। কলম্বিয়ার দিনমজুর মারভিন জানান, কাজ হারানোর আশঙ্কার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে হঠাৎ আটক হওয়ার ভয়।
অভিযানটি নিশ্চিত হলেও মোট কতজন আটক হয়েছেন, তাঁদের পরিচয় কী এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব এখনো প্রকাশ্য নথিতে স্পষ্ট নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের হিসাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় আটজন।
খাবার বিতরণের সময় অভিযান
ঘটনাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ অভিযানটি এমন একটি এলাকায় হয়, যেখানে প্রতি মঙ্গলবার সেন্ট জন’স ব্রেড অ্যান্ড লাইফের মোবাইল স্যুপ কিচেন দিনমজুরদের খাবার দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ক্যারোলিন টুইডি Documented-কে বলেন, তাঁদের কর্মীরা দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার হতে দেখেছেন এবং এতে কর্মীরা আতঙ্কিত হন। তবে তিনি বলেননি যে খাদ্যসংস্থাটিকে লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
কিছু শ্রমিকের ধারণা, খাবার বিতরণের সময় জেনেই অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু এ দাবির পক্ষে প্রকাশ্য সরকারি নথি নেই। তাই বলা যায়, অভিযানটি খাবার বিতরণের সময় ও স্থানের সঙ্গে মিলে গেছে; স্যুপ কিচেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল—এটি প্রমাণিত নয়।
এ ধরনের ঘটনার প্রভাব আটক ব্যক্তিদের বাইরেও ছড়াতে পারে। ভয়ের কারণে মানুষ খাবার, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা বা অন্যান্য সামাজিক সেবা নিতে না চাইলে সেটিকে জনস্বাস্থ্য ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে “chilling effect” বলা হয়।
নির্মাণশ্রমে অভিবাসীদের বড় ভূমিকা
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ২০১৯ সালের বাজেট ব্রিফিংয়ে শহরে আনুমানিক ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ দিনমজুর থাকার কথা বলা হয়েছিল। এটি বর্তমান জনসংখ্যার হিসাব নয়, তবে অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের আকার সম্পর্কে একটি সরকারি অনুমান।
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটি প্ল্যানিংয়ের The Newest New Yorkers, 2026 প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে:
● শহরের আবাসিক শ্রমশক্তির ৪৩ শতাংশ বিদেশে জন্ম নেওয়া;
● ২০১৯–২০২৩ সময়ে নির্মাণ খাতে কর্মরত প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অভিবাসী;
● নির্মাণশ্রমিকদের ৩৯ শতাংশ অ-নাগরিক—সব শিল্পখাতের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুপাত।
অ-নাগরিক মানেই নথিহীন নয়। এই শ্রেণিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং অনুমতিবিহীন অভিবাসী—সবাই থাকতে পারেন।
উডসাইডে শ্রমিকদের অনুপস্থিতির কারণে কত ব্যবসা বা নির্মাণ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার কোনো প্রকাশিত স্থানীয় জরিপ নেই। তবে ছোট ঠিকাদার, রুফিং দল, ডেমোলিশন ক্রু ও মুভিং ব্যবসার একটি অংশ যে দ্রুত শ্রমিক পাওয়ার জন্য এই অনানুষ্ঠানিক বাজারের ওপর নির্ভর করে, তা শ্রমবাজারের কাঠামো থেকেই স্পষ্ট।
সরকারের বক্তব্য
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, অভিবাসন আইন কার্যকর করা ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব এবং অভিযানের লক্ষ্য আইন ভঙ্গকারী বা অপসারণযোগ্য ব্যক্তিরা।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর “Operation Rotten Apple” অভিযানের ফল প্রকাশ করে জানায়, ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্টের মধ্যে নিউইয়র্কজুড়ে ২,১৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভাগটি আটক ব্যক্তিদের অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত হিসেবে তুলে ধরে অভিযানকে জননিরাপত্তামূলক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
তবে এটি প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব। পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক তথ্য না থাকায় ২,১৯৭ জনের কতজন গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত, কতজনের কেবল দেওয়ানি অভিবাসন লঙ্ঘন ছিল, কতজনের মামলা চলমান বা পরে মুক্তি পেয়েছেন—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
অননুমোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাধারণত দেওয়ানি বিষয়। অন্যদিকে অবৈধ পুনঃপ্রবেশের মতো কিছু আচরণ ফৌজদারি অপরাধ। ফলে সব আটক ব্যক্তিকে একইভাবে “অপরাধী” হিসেবে বর্ণনা করা আইনগত পার্থক্যকে আড়াল করতে পারে।
বৈষম্য ও জবাবদিহির প্রশ্ন
উডসাইডের সিটি কাউন্সিল সদস্য জুলি ওয়ন অভিযোগ করেছেন, ওয়ারেন্ট ছাড়া গায়ের রং ও ভাষার ভিত্তিতে মানুষ বেছে নেওয়া হয়েছে। এটি তাঁর অভিযোগ; আদালতে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। ICE এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অভিযানটি যদি লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে থাকে, তাহলে লক্ষ্য নির্ধারণের মানদণ্ড কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো প্রকাশ্যে নেই। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিবাসন ওয়ারেন্ট, বিচারকের স্বাক্ষরিত ফৌজদারি ওয়ারেন্ট, নাকি অন্য কোনো আইনি কর্তৃত্ব ব্যবহার করা হয়েছিল, তাও স্পষ্ট নয়।
কর্মস্থলভিত্তিক অভিবাসন অভিযান নিউইয়র্কে নতুন নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আপস্টেট নিউইয়র্কের ক্যাটোতে একটি স্ন্যাক-বার কারখানায় অভিযানে ৫৭ জন আটক হন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে অবৈধ পুনঃপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয়; বাকিরা অপসারণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন।
নিউইয়র্কের ক্যানাল স্ট্রিটে ২০২৫ সালের আরেক অভিযানের পর বিক্রেতাদের অনুপস্থিতি এবং কিছু মার্কিন নাগরিককে কাগজপত্র দেখাতে বলা হয়েছিল বলে AP ও Reuters প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব ঘটনা উডসাইডের অভিযানের সরাসরি প্রমাণ নয়, তবে অভিবাসন প্রয়োগের পর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আচরণে ভয়ের প্রভাব নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন তোলে।
পুরোনো অনিশ্চয়তার ওপর নতুন চাপ
ICE অভিযান দিনমজুরের শ্রমবাজারের দুর্বলতা তৈরি করেনি। অধিকাংশ শ্রমিক লিখিত চুক্তি, স্বাস্থ্যবিমা, বেতনসহ ছুটি বা কাজের ধারাবাহিকতা ছাড়াই কাজ করেন। আহত হলে ক্ষতিপূরণ বা বকেয়া মজুরি আদায় কঠিন; অভিবাসনভীতি অসাধু নিয়োগদাতার হাতে অতিরিক্ত চাপের অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।
শহর-সমর্থিত day-labor center বা worker center এই ঝুঁকি কমাতে পারে। দক্ষতা যাচাই, লিখিত কাজের শর্ত, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, ন্যূনতম মজুরি সম্পর্কে তথ্য এবং বিরোধ নিষ্পত্তি একই কাঠামোর মধ্যে দেওয়া সম্ভব। ২০১৯ সালে সিটি কাউন্সিলের ২ মিলিয়ন ডলারের Day Laborers Initiative-এর লক্ষ্যও ছিল এমন নিয়োগ অবকাঠামো গড়ে তোলা।
উডসাইডের ঘটনাটি তাই শুধু অভিবাসন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, শ্রমিক অধিকার, নির্মাণশিল্প এবং নিয়োগকর্তার জবাবদিহি—সবই যুক্ত।
সামনে কী
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা, তাঁদের আইনি অবস্থা এবং অভিযানের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে সরকারি তথ্য প্রকাশ না হলে ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে না। একই সঙ্গে উডসাইডে শ্রমিকদের অনুপস্থিতি সাময়িক নাকি দীর্ঘস্থায়ী, তা-ও এখনো জানা যায়নি।
নিউইয়র্কের নির্মাণশ্রমে অভিবাসীদের বড় অংশগ্রহণের কারণে কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের প্রভাব শ্রমবাজারে পড়তে পারে। তবে স্থানীয় ব্যবসা বা প্রকল্পে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য পরিমাপ নেই।
জেনারেল হার্ট প্লেগ্রাউন্ডের পাশের ফাঁকা রাস্তা তাই একটি তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের দৃশ্য—এবং একই সঙ্গে এমন এক শ্রমব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি, যার ওপর শহর নির্ভরশীল হলেও শ্রমিকদের বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক নিয়োগ, সীমিত সুরক্ষা ও অভিবাসনভীতির মধ্যে কাজ করেন।
আমরা যা জানি / যা এখনো অস্পষ্ট
যা নিশ্চিত
● ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জেনারেল হার্ট প্লেগ্রাউন্ডের পাশে ICE অভিযান চালিয়েছে; সংস্থার মুখপাত্র Documented-এর কাছে তা নিশ্চিত করেছেন।
● ৩ সেপ্টেম্বর সেখানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম দিনমজুর দেখা গেছে।
● সেন্ট জন’স ব্রেড অ্যান্ড লাইফের কর্মীরা অন্তত দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার হতে দেখেছেন বলে প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন।
● নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটি প্ল্যানিংয়ের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে নির্মাণশ্রমে অভিবাসীদের অংশ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বলা হয়েছে।
● DHS-এর হিসাবে ২৭ জুলাই থেকে ২৯ আগস্টের “Operation Rotten Apple”-এ নিউইয়র্কজুড়ে ২,১৯৭ জন আটক হয়েছেন।
যা এখনো পুরোপুরি যাচাই করা যায়নি
● ১ সেপ্টেম্বরের অভিযানে মোট কতজন আটক হয়েছেন; প্রত্যক্ষদর্শীদের হিসাব প্রায় আটজন।
● তিন দিন আগের কথিত অভিযানে কতজন আটক হয়েছিলেন।
● আটক ব্যক্তিদের অভিবাসন অবস্থা, অপরাধের ইতিহাস, কাজের অনুমতি বা মামলার বর্তমান অবস্থা।
● বৈধ কাগজ বা কাজের অনুমতি থাকা একজনকে আটক করার অভিযোগ।
● স্যুপ কিচেনের সময়কে পরিকল্পিতভাবে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।
● শ্রমিক অনুপস্থিতির কারণে উডসাইডের ব্যবসা বা নির্মাণ প্রকল্পে মোট আর্থিক ক্ষতি।
উৎস ও যাচাই নোট
এই প্রতিবেদনটি Documented-এর মাঠ-রিপোর্টিং, ICE ও DHS-এর সরকারি বক্তব্য, নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটি প্ল্যানিং এবং সিটি কাউন্সিলের নথি, সেন্ট জন’স ব্রেড অ্যান্ড লাইফের তথ্য এবং AP ও Reuters-এর স্বাধীন প্রতিবেদন মিলিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ICE পূর্ণ আটকতালিকা প্রকাশ না করায় আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা, পরিচয় ও পরবর্তী আইনি অবস্থার কিছু অংশ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সরাসরি উৎস
1. Documented — ICE Raids on Queens Day Laborers Have Left Many Not Showing Up for Work
2. NYC Department of City Planning — The Newest New Yorkers, 2026, Chapter 7
3. NYC Council — Mayor’s Office of Immigrant Affairs, FY2020 Executive Budget briefing
4. U.S. Department of Homeland Security — Operation Rotten Apple announcement
5. St. John’s Bread & Life — Programs and organizational history
6. Associated Press — Upstate New York workplace raid and 57 detentions
7. Associated Press — Canal Street federal sweep and vendor accounts
8. Reuters — New York attorney general seeks evidence after Canal Street raid
9. Reuters — Omaha plant raid, staffing and production disruption
10. ICE — Form I-9 inspection process
#Queens #ImmigrantWorkers
Hashtags: #Queens #ICERaid #ImmigrantWorkers #DayLaborers #NewYorkCity #Woodside #Immigration #নিউইয়র্ক




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।