ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার বৃহত্তম ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ ও নজিরবিহীন মাত্রার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শত শত ড্রোনের এই লাগাতার হামলায় অন্তত ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শহরটিতে এটিই সবচেয়ে মারাত্মক এবং দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিক হামলা।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও ইউক্রেনীয় সূত্রের তথ্যমতে, এই ব্যাপক মাত্রার হামলায় গোটা কিয়েভ শহর কার্যত কেঁপে ওঠে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে এই সমন্বিত হামলা চালিয়েছে, যাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোন শনাক্ত করতে এবং ধ্বংস করতে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।জীবন ও অবকাঠামোতে ধ্বংসযজ্ঞবার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় কিয়েভের আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলওয়ে অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যরাতে যখন সাধারণ মানুষ ঘুমাচ্ছিল, ঠিক তখনই একের পর এক ড্রোনের বিস্ফোরণে আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আগুন ধরে যায়। কিয়েভ ছাড়াও দিনিপ্রোসহ ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে আঘাত হানা এই হামলায় অসংখ্য আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ধসে পড়েছে, যার ফলে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো একে কিয়েভের ওপর অন্যতম ধ্বংসাত্মক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।পাল্টাপাল্টি হুংকার ও উদ্বেগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে যে, লুহানস্কে একটি ডরমিটরিতে ভয়াবহ হামলার পর রাশিয়া কিয়েভে 'পদ্ধতিগত' হামলার হুমকি দিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় মস্কোর পক্ষ থেকে এটিকে 'ম্যাসিভ স্ট্রাইক' বা বড় ধরনের হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যেখানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে 'সন্ত্রাস' বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রের স্থবিরতার মধ্যেই দুই দেশের এমন ভয়াবহ আকাশযুদ্ধ পুরো অঞ্চলটিতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।