লন্ডনে জেলেনস্কিকে নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের জরুরি বৈঠক: ইউরোপের নতুন নিরাপত্তা ব্লকের উত্থান?

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে, ঠিক তখনই ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে মস্কোর তীব্র বিমান হামলা এবং বিশ্বরাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে লন্ডনে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে বসেছিল বিশ্বরাজনীতির এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বৈঠক। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ইরান সংকট নিয়ে ব্যস্ত, তখন ইউরোপের নিরাপত্তা নিজেদের হাতে নিতেই এই 'E3 প্লাস ইউক্রেন' ফরম্যাটের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জরুরি বৈঠকের ঠিক আগের দিনগুলোতে ইউক্রেনের কূটনীতিতে বড় ধরণের নাটকীয়তা তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেন্ট পিটার্সবার্গ অর্থনৈতিক ফোরামে দাঁড়িয়ে পুতিন সেই প্রস্তাবকে সরাসরি 'অশোভন' বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পুতিনের এই অনড় অবস্থান এবং চেরনোবিল পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণাগারের কাছে সাম্প্রতিক রুশ ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় নেতারা কিয়েভের সুরক্ষায় দ্রুত এই শীর্ষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন।
ইউরোপীয় সংবাদ সংস্থা ইউরোনিউজ ডাউনিং স্ট্রিটের এই বৈঠককে বর্ণনা করেছে "মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে ইউরোপের সমন্বিত শক্তি প্রদর্শন" হিসেবে। ফ্রান্সের এলিসি প্রাসাদের একটি বিবৃতি উল্লেখ করে তারা জানায়, এই বৈঠক কেবল ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য নয়, বরং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ব্যর্থ প্রমাণ করার একটি অভিন্ন এজেন্ডা।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন ইউক্রেন ইস্যুতে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখায় ইউরোপ এখন নিজেদের প্রতিরক্ষায় স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। ফরাসি ও ব্রিটিশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ (Coalition of the Willing)-এর মাধ্যমে ইউক্রেনকে দীর্ঘমেয়াদে সামরিক ও আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার পথ খোঁজা হচ্ছে এই বৈঠক থেকে।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (X) জেলেনস্কি লিখেছেন, "ইউক্রেনের জন্য এটি সবসময় অগ্রাধিকার যে, যেকোনো শান্তি আলোচনায় যেন ইউরোপের অবস্থান এবং কণ্ঠস্বর শক্তিশালী থাকে।"
লন্ডনের এই জরুরি বৈঠক কেবল ইউক্রেনকে টিকিয়ে রাখার লড়াই নয়, বরং আমেরিকার সাহায্য কমে গেলেও ইউরোপ যে এককভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ও কূটনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত—বিশ্ব রাজনীতিতে সেই শক্তিশালী বার্তাই দিল।




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।