ফখরুলের শপথে আমন্ত্রণ পাননি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথে আমন্ত্রণ পাননি সাহাবুদ্দিন: সৌজন্যের ঘাটতি, নাকি রাজনৈতিক দূরত্বের বার্তা?
১,২০০ অতিথির বঙ্গভবনে বাদ সাবেক রাষ্ট্রপতি: প্রশ্নের মুখে রাষ্ট্রীয় সৌজন্য
‘দুঃখিত ও বিব্রত’ সাহাবুদ্দিন: ফখরুলের শপথে অনুপস্থিতির নেপথ্যে কী
স্ট্যান্ডফার্স্ট
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথে রাজনীতিক, কূটনীতিক ও রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আমন্ত্রিত ছিলেন ১,২০০-এর বেশি অতিথি। কিন্তু ডাক পাননি মাত্র এক মাস আগে পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আইনে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ঘটনাটি বাংলাদেশের বিভাজিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
মাহবুব আহমেদ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
বঙ্গভবনের আলোয় অনুপস্থিত একটি মুখ
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নিচ্ছিলেন, তখন অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সেখানে ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ১,২০০-এর বেশি অতিথিকে।
কিন্তু বঙ্গভবনের সাবেক বাসিন্দা, বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন না। কারণ তিনি আমন্ত্রণই পাননি।
সংবাদমাধ্যম আমার দেশ-এর প্রশ্নের জবাবে সাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি আমন্ত্রণ পাইনি। বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত ও বিব্রত। আমি আর কিছু বলতে চাই না।”
তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া একটি সাধারণ নিমন্ত্রণপত্রের অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের সংস্কৃতি নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কে পরিণত করেছে।
সাহাবুদ্দিন আরও জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় খারাপ; পা ফুলে যাওয়ায় স্বাভাবিক হাঁটাচলাতেও সমস্যা হচ্ছে। তবে তিনি অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি—বিষয়টি এমন নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।
এক মাসের ব্যবধানে বঙ্গভবনের ভেতর থেকে বাইরে
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।
কিন্তু ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং পরবর্তী দীর্ঘ রাজনৈতিক রূপান্তরের পর তাঁর অবস্থান ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারী ও আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন পক্ষ তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দেখত। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা বলতেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
২০২৬ সালের ২৪ জুলাই সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগে তাঁর বিদায় ঘটে। পরদিন তিনি সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়েন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করেন। সে অনুসারে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
এরপর ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ভোট দেন মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য।
পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মির্জা ফখরুলকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
আমন্ত্রণের দায়িত্ব কার?
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের মূল দায়িত্ব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এতে সহযোগিতা করে।
দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই অনুষ্ঠান আয়োজনের কাজ শুরু হয়। একটি উপকমিটি অতিথি তালিকা তৈরি, আমন্ত্রণপত্র ছাপানো ও পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে। গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা আমন্ত্রণ পেয়েছেন কি না, সেটিও যাচাই করার কথা।
প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক এবং সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণপত্র সাধারণত হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। দরবার হলে প্রায় ৭০০ জনের আসনসংস্থান থাকলেও এবারের অনুষ্ঠানের জন্য আরও বিস্তৃত ব্যবস্থা করা হয়েছিল; অতিরিক্ত অতিথিদের অনুষ্ঠান দেখাতে বারান্দা ও মাঠে পর্দা স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল।
এত বড় অতিথি তালিকায় সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতির নাম কেন ছিল না—এ বিষয়ে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বঙ্গভবন কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে প্রকাশ্য কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ কারণে ঘটনাটি নিছক প্রশাসনিক ভুল, নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনুমান, নাকি সচেতন রাজনৈতিক বর্জন—তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু প্রথার মূল্য আছে
বাংলাদেশের সংবিধান কিংবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথে আমন্ত্রণ জানানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধান নির্ধারণ করে না। ফলে আমন্ত্রণ না পাঠানোকে সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন বলা যাবে না।
কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনা শুধু আইনের ন্যূনতম নির্দেশে চলে না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অলিখিত রীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিকতার দৃশ্যমান প্রতীক।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শপথ অনুষ্ঠান কেবল একজন ব্যক্তির পদ গ্রহণ নয়; এটি পুরোনো ও নতুন প্রশাসনের মধ্যকার সাংবিধানিক সেতু। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতি সেই সেতুর দৃশ্যমান স্বীকৃতি হতে পারে—বিশেষ করে যখন ক্ষমতার পরিবর্তন রাজনৈতিক সংঘাত ও গভীর বিভাজনের মধ্য দিয়ে আসে।
অতএব সাহাবুদ্দিনকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত বৈধ হতে পারে, কিন্তু সেটি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচক্ষণ ছিল কি না—এ প্রশ্ন আলাদা।
বিতর্কিত উত্তরাধিকার কি আমন্ত্রণ বাতিলের কারণ?
সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতিত্বকে ঘিরে আপত্তির বাস্তব রাজনৈতিক ভিত্তি রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এবং সংসদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই নির্বাচিত হয়েছিলেন। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ায় তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীরা শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছিল।
২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলন ও শেখ হাসিনার পতনের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও একাধিকবার রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দেয়। ফলে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে তাঁকে বিদায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়ে পরাজিত পুরোনো ব্যবস্থার প্রতিনিধি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু এখানেই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও দলীয় রাজনীতির সীমারেখার প্রশ্ন আসে। কোনো রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক অতীত বা দায়িত্বকালে তাঁর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে। গুরুতর অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত ও আইনসম্মত জবাবদিহিও প্রয়োজন। কিন্তু কোনো অভিযোগের বিচার ছাড়াই তাঁকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা থেকে অদৃশ্য করে দেওয়া হলে সেটি জবাবদিহির বিকল্প নয়; বরং প্রতীকী বর্জন।
অন্যদিকে আয়োজকদের সম্ভাব্য যুক্তিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতিথি তালিকা তৈরিতে নিরাপত্তা, প্রটোকল, রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং অনুষ্ঠানস্থলের সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হয়। সাহাবুদ্দিনের স্বাস্থ্যগত অবস্থাও গুরুতর বলে তাঁর নিজের বক্তব্যে জানা যাচ্ছে। তবে এসবের কোনোটি আমন্ত্রণ না পাঠানোর ব্যাখ্যা হিসেবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেনি।
নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে নিরপেক্ষতার পরীক্ষা
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক রূপান্তরের আরেকটি বড় অধ্যায়। দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিব হিসেবে তিনি শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। গ্রেপ্তার, মামলা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মুখোমুখি হওয়ার পর এখন তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে।
বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সম্পাদিত হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের সীমিত ক্ষেত্র ছাড়া অধিকাংশ কাজে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণ করতে হয়। তবু তিনি রাষ্ট্রপ্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং রাষ্ট্রীয় ঐক্যের প্রতীক।
রাজনৈতিক সংকট, সরকার গঠন, সংসদ ভেঙে দেওয়া, ক্ষমা প্রদর্শন এবং কিছু সাংবিধানিক নিয়োগের মতো বিষয়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ফলে দলীয় রাজনীতি থেকে উঠে এলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর কাছে প্রত্যাশা থাকে—তিনি দল, মত ও অতীতের সংঘাতের ঊর্ধ্বে উঠবেন।
নিজের শপথ অনুষ্ঠানে পূর্বসূরির অনুপস্থিতির দায় সরাসরি নতুন রাষ্ট্রপতির ওপর আরোপ করার মতো তথ্য এখনো নেই। অতিথি তালিকা প্রস্তুত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মির্জা ফখরুল বা তাঁর দপ্তর সাহাবুদ্দিনকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাজনৈতিক পুনর্মিলন ও সাংবিধানিক অন্তর্ভুক্তির পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব এখন তাঁরও। পূর্বসূরির প্রতি একটি সৌজন্যমূলক যোগাযোগ সেই বার্তা দেওয়ার ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।
একটি নিমন্ত্রণপত্র কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পরিবর্তন প্রায়ই প্রতিপক্ষের নির্মূল, ইতিহাস পুনর্লিখন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে বিজয়ী দলের সম্পত্তিতে পরিণত করার প্রবণতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। প্রতিটি নতুন সরকার অতীতের শাসকদের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে; পরবর্তী সরকার আবার উল্টো পথে হেঁটেছে।
এই সংস্কৃতিতে একটি আমন্ত্রণপত্রও রাজনৈতিক অর্থ বহন করে।
সাহাবুদ্দিনকে আমন্ত্রণ জানানো মানে তাঁর সব সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা হতো না। একইভাবে তাঁকে আমন্ত্রণ না জানানোও আইনত তাঁর রাষ্ট্রপতিত্ব বাতিল করে না। কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হলে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা দেখাতে পারত—সমালোচনা ও জবাবদিহি বজায় রেখেও রাষ্ট্র তার প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি অস্বীকার করে না।
গণতন্ত্রের শক্তি কেবল নির্বাচনে বিজয়ীকে সম্মান জানানোর মধ্যে নয়; পরাজিত, বিতর্কিত কিংবা অপ্রিয় পূর্বসূরিকেও আইনের অধীনে মর্যাদা দেওয়ার সামর্থ্যের মধ্যেও তা প্রকাশ পায়।
বঙ্গভবনের দরবার হলে সেদিন ১,২০০-এর বেশি অতিথি ছিলেন। তবু একটি খালি আসনই শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
আমরা যা জানি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ আগস্ট ২০২৬ সংসদীয় ভোটে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে তাঁর শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ১,২০০-এর বেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, তিনি আমন্ত্রণ পাননি এবং এতে “দুঃখিত ও বিব্রত”।
সাহাবুদ্দিন ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।
যা এখনো পরিষ্কার নয়
সাহাবুদ্দিনের নাম প্রথম থেকেই অতিথি তালিকায় ছিল না, নাকি প্রশাসনিক ভুলে বাদ পড়েছে।
তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ নিয়েছে।
নিরাপত্তা বা স্বাস্থ্যগত কোনো বিবেচনা সিদ্ধান্তটিকে প্রভাবিত করেছিল কি না।
সাবেক রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পর সরকার বা বঙ্গভবন আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেবে কি না।
উৎস ও যাচাই নোট
সাহাবুদ্দিনের বক্তব্য প্রথমে আমার দেশ-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় এবং পরে একাধিক দেশীয় সংবাদমাধ্যম সেটি পুনঃপ্রকাশ করে। তবে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ অডিও, ভিডিও বা লিখিত বিবৃতি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। আমন্ত্রণ না পাওয়ার দাবি সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা বঙ্গভবনের স্বাধীন নিশ্চিতকরণও ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। নির্বাচনের ফল, শপথের সময়, অতিথির সংখ্যা এবং পদত্যাগের তথ্য সরকারি ও একাধিক স্বাধীন সংবাদমাধ্যমে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
প্রধান সূত্র
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল
Times Today: আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়ে সাহাবুদ্দিনের প্রতিক্রিয়া
#বাংলাদেশ #মির্জাফখরুল #মোহাম্মদসাহাবুদ্দিন #বঙ্গভবন #রাষ্ট্রপতি #BangladeshPolitics #PoliticalTransition #Constitution




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।