খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল দেখে বিস্মিত ট্রাম্প: ‘ভাবতাম মানুষ তাঁকে ঘৃণা করে, এত কান্না দেখে অবাক’

খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের ঢল দেখে বিস্মিত ট্রাম্প: ‘ভাবতাম মানুষ তাঁকে ঘৃণা করে, এত কান্না দেখে অবাক’
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ এবং প্রকাশ্য শোকপ্রকাশ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তিনি ধারণা করেছিলেন যে ইরানের সাধারণ মানুষ খামেনিকে অপছন্দ করে, কিন্তু শোকমিছিলে মানুষের কান্না ও আবেগ তাঁকে বিস্মিত করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম মানুষ তাঁকে ঘৃণা করে। কিন্তু এত মানুষকে কাঁদতে দেখলাম। হয়তো সত্যিকারের কান্না, হয়তো নয়—তবে দৃশ্যটি আমাকে অবাক করেছে।”
তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তেহরান, কোম, মাশহাদসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে কয়েকদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান চলছে এবং লাখো মানুষ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
কেন এত মানুষের সমাগম?
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে খামেনি ছিলেন অত্যন্ত বিতর্কিত কিন্তু একইসঙ্গে প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন ইসলামী বিপ্লবের ধারক ও রক্ষক; অন্যদিকে সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন কঠোর ধর্মীয় শাসনের প্রতীক।
তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির কফিন প্রদর্শনের সময় হাজার হাজার মানুষ কালো পোশাকে শোক পালন করেন। অনেককে বুক চাপড়াতে, কাঁদতে এবং ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ইরানি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানাজা ও দাফন কর্মসূচি এক সপ্তাহব্যাপী চলবে এবং এতে কয়েক মিলিয়ন মানুষ অংশ নিতে পারেন।
ট্রাম্পের ‘ওয়ান শট’ মন্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক
শুধু শোকপ্রকাশ নিয়েই নয়, ট্রাম্পের আরেকটি মন্তব্য নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খামেনির জানাজায় ইরানের শীর্ষ নেতারা একত্রিত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে “একটি হামলায়” তাঁদের সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারত। তবে তিনি দাবি করেন, এমন কিছু করা হবে না, কারণ তখন আলোচনার জন্য আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।
এই মন্তব্যের পর ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এমন বক্তব্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও শোকাবহ পরিবেশের প্রতি অসম্মান।
খামেনির মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের সময় নিহত হন বলে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল।
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে খুব কমই দেখা দিয়েছেন।
জনতার কান্না কি রাজনৈতিক বার্তা?
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি সবসময়ই রাজনৈতিক সমর্থনের সরল প্রতিফলন নয়। অনেক সময় জাতীয় পরিচয়, ধর্মীয় আবেগ, শহীদ সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রীয় আয়োজন একসঙ্গে কাজ করে।
তবে খামেনির জানাজায় বিপুল জনসমাগম একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে শুধুমাত্র পশ্চিমা দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ট্রাম্পের বিস্ময়ও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
#Iran #Khamenei #DonaldTrump #IranFuneral #MiddleEast #BreakingNews #WorldNews #IranPolitics #Trump #Geopolitics #Tehran #MojtabaKhamenei #USIranRelations #InternationalNews #BanglaNews #AmericaBangla #MiddleEastNews #GlobalPolitics #NewsUpdate #BreakingStory




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।