লন্ডনে ফোন চুরির বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র ‘কিল সুইচ’— তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনো নয়

আপনার স্মার্টফোনটি যদি হঠাৎ চুরি হয়ে যায়, প্রথমেই হয়তো থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন, সিম কার্ড ব্লক করবেন কিংবা ‘ফাইন্ড মাই ফোন’ বা অনুরূপ ফিচার দিয়ে সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে হয়—ফোনটি আর ফিরে আসবে না।
লন্ডনের বাসিন্দাদের জন্য এটি নিত্যদিনের বাস্তবতা। শহরটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি স্মার্টফোন চুরি হয়। পুরো ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যত ফোন চুরি হয়, তার প্রায় ৭৫ শতাংশই ঘটে লন্ডনে।
এই পরিস্থিতিতে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি টেলিকম কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর চাপ সৃষ্টি করেন। তাঁর দাবি ছিল, চুরি হওয়া ফোন এমনভাবে ‘ব্রিক’ (Brick) করে দিতে হবে, যাতে সেটি চোরের কাছে সম্পূর্ণ মূল্যহীন হয়ে যায়।
চালু হলো নতুন ‘কিল সুইচ’
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২১ জুন ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যের দুই বড় টেলিকম অপারেটর Virgin Media O2 এবং VodafoneThree নতুন একটি ‘কিল সুইচ’ প্রযুক্তি চালু করেছে।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে—
শোরুম থেকে কোনো নতুন ফোন চুরি হলে সেটি প্রথমবার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্মাতার ডাটাবেসে চিহ্নিত হবে।
এরপর দূর থেকে একটি নিরাপত্তা নির্দেশনা পাঠিয়ে ফোনটি সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়া হবে।
ফলে চোর চাইলে সেটি আর ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি করতে পারবে না।
কিন্তু সাধারণ গ্রাহকদের জন্য নেই এই সুবিধা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই কিল সুইচ এখনো শুধুমাত্র টেলিকম কোম্পানির শোরুম বা গুদামে থাকা বিক্রয়বিহীন (Unsold) ফোনের জন্যই প্রযোজ্য।
অর্থাৎ, আপনি যদি বৈধভাবে ফোন কিনে ব্যবহার করেন এবং সেটি ছিনতাই বা চুরি হয়ে যায়, তাহলে এই নতুন প্রযুক্তি আপনাকে সুরক্ষা দেবে না।
এখন পর্যন্ত অ্যাপল ও স্যামসাং এমন কোনো সার্বজনীন কিল সুইচ চালু করেনি, যা ব্যবহারকারীর চুরি হওয়া ফোন স্থায়ীভাবে অকেজো করে দিতে পারে।
তবুও আশার খবর আছে
প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
অ্যাপলের নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে চুরি হওয়া আইফোনের মাত্র ২০ শতাংশ পুনরায় সচল করা সম্ভব হচ্ছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে লন্ডনে ফোন চুরি ১৮ শতাংশ কমেছে, যা সংখ্যায় প্রায় ১৪ হাজার কম চুরির ঘটনা।
অন্যদিকে, গুগল অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Remote Lock ও Theft Detection ফিচার ডিফল্টভাবে যুক্ত করেছে, যা চুরি হওয়া ডিভাইসের নিরাপত্তা আরও জোরদার করছে।
প্রযুক্তি আছে, অপেক্ষা শুধু সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ার
রিটেইল স্টোরগুলোর চাপের মুখে বিক্রয়বিহীন ফোনের জন্য সমাধান এসেছে। কিন্তু কোটি কোটি সাধারণ ব্যবহারকারীর ফোন এখনো একই ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন না সব নির্মাতাকে ব্যবহারকারীর ফোনেও বাধ্যতামূলক কিল সুইচ চালুর আওতায় আনা হচ্ছে, ততদিন স্মার্টফোনের নিরাপত্তার বড় দায়িত্ব ব্যবহারকারীর নিজের কাঁধেই থাকবে।
আপনি কি আপনার ফোনে ‘Find My Device’, ‘Find My iPhone’, Remote Lock বা Theft Detection-এর মতো নিরাপত্তা ফিচার চালু রেখেছেন? ফোন চুরি হলে আপনার প্রথম পদক্ষেপ কী হবে? মন্তব্যে জানান আপনার মতামত।
সম্ভাব্য শিরোনাম
লন্ডনে ফোন চুরির বিরুদ্ধে ‘কিল সুইচ’, তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনো নয়
চুরি হলেই ফোন হবে অকেজো! যুক্তরাজ্যে চালু ‘কিল সুইচ’, কিন্তু সবার জন্য নয়
ফোন চুরি ঠেকাতে নতুন প্রযুক্তি, তবু নিরাপদ নন সাধারণ গ্রাহক
চোরের হাতে ফোন, মুহূর্তেই ‘ব্রিক’! যুক্তরাজ্যে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্মার্টফোন চুরির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, কিন্তু আপনার ফোন কি সুরক্ষিত?
#UK #London #PhoneTheft #KillSwitch #Smartphone #MobileSecurity #CyberSecurity #Apple #Android #Google #TechNews #Innovation #FindMyPhone #RemoteLock #TheftDetection #DigitalSafety #AI #Technology #BreakingNews #ExclusiveTech




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।