ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণ, টেক্সাসে বিচার শুরু: বাংলাদেশি মানবপাচার নেটওয়ার্কের অভিযোগে সাইফুল্লাহ আল-মামুন আদালতে

ডেস্ক রিপোর্ট | সাপ্তাহিক ক্যালিফোর্নিয়ার চিঠি
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে মধ্য আমেরিকা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে টেক্সাসের লারেডো ফেডারেল আদালতে তার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। (Department of Justice)
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, ৩৯ বছর বয়সী আল-মামুন এমন একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন, যারা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করত। তদন্তকারীরা বলছেন, এই নেটওয়ার্ক ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ও মেক্সিকো হয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে পৌঁছে দিত। (Department of Justice)
অভিযোগ কী?
আদালতে দাখিল করা দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আল-মামুন ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে অভিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতেন এবং তাদের পরবর্তী যাত্রাপথ সমন্বয় করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আসা বহু অভিবাসীকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে স্থানান্তর করা হতো এবং শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হতো। (Department of Justice)
একই মামলায় অভিযুক্ত আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিক—মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন—ইতোমধ্যে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মনতেরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। পরে দুজনকেই ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। (Department of Justice)
‘হাজার হাজার ডলারের ব্যবসা’
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর জন্য অভিবাসীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হতো। অনেককে বিপজ্জনক রুটে ভ্রমণ করতে হতো এবং রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হওয়ার সময় প্রাণহানির ঝুঁকিও থাকত। (Department of Justice)
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা আল-মামুনকে এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থানরত অভিবাসীদের যাত্রাপথ, আশ্রয় ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমন্বয় করতেন। (https://www.kgns.tv)
২০১৯ সালে গ্রেপ্তার, সাত বছর পর প্রত্যর্পণ
এই মামলার ইতিহাস আরও পুরোনো। ২০১৯ সালে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে সাও পাওলোতে আল-মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ এবং মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) যৌথভাবে একটি বৃহৎ অভিযান চালিয়ে অভিযোগিত মানবপাচার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, নেটওয়ার্কটি আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ব্রাজিল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাত। (Department of Justice)
গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৬ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। (Department of Justice)
কী শাস্তির মুখোমুখি?
দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনা মানবপাচার-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসন সহায়তার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। (Department of Justice)
অভিবাসন সংকটের বড় প্রেক্ষাপট
মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে ফেডারেল সরকার ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে। বিচার বিভাগের যৌথ টাস্ক ফোর্স আলফা (JTFA), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), ইন্টারপোল এবং ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সমন্বয়ে এই তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। (Department of Justice)
তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বর্তমানে বিচারাধীন।
#USNews #Immigration #HumanSmuggling #Bangladesh #Texas #Brazil #BorderSecurity #CaliforniaChithi




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।