ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দে মার্কিন বিশেষ অভিযান? ফোরদো, ইসফাহান ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ঘিরে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কা

ইউরেনিয়ামের সন্ধানে পাহাড়ের গভীরে: ইরানে মার্কিন ‘দখল অভিযান’ কি পারমাণবিক ঝুঁকি কমাবে, নাকি খুলবে আরও ভয়ংকর যুদ্ধের দরজা?
কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে বিশেষ সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বিবেচনার দাবি; দুর্গম ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, আন্তর্জাতিক আইন, বিকিরণঝুঁকি ও আঞ্চলিক প্রতিশোধের আশঙ্কায় প্রশ্নের মুখে সম্ভাব্য মিশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সাপ্তাহিক ক্যালিফোর্নিয়ার চিঠি
ইরানের পাহাড়ের গভীরে লুকানো পারমাণবিক স্থাপনায় ঢুকে কয়েক শ কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা—শুনতে এটি আধুনিক গুপ্তচর উপন্যাস বা হলিউডের সামরিক থ্রিলারের কাহিনির মতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
২৫ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেঙে পড়লে ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ, ধ্বংস অথবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত জটিল বিশেষ সামরিক অভিযান বিবেচনায় থাকতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে প্রতিবেদনে ফোরদো, ইসফাহান এবং নাতাঞ্জের নিকটবর্তী নতুন ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ বা কুহ-ই কোলাং গাজ লা কমপ্লেক্সের কথা বলা হয়েছে। (New York Post)
তবে এখানে সত্য ও অনুমানের সীমারেখা স্পষ্ট রাখা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ ধরনের অভিযান অনুমোদন করেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনটি অজ্ঞাত সূত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর দাঁড়ানো; স্বাধীনভাবে পুরো পরিকল্পনাটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটি এখনো নিশ্চিত সামরিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে পরিকল্পনা বা ‘কনটিনজেন্সি প্ল্যানিং’ হিসেবে বিবেচিত হওয়াই যৌক্তিক।
তারপরও খবরটি গুরুত্বহীন নয়। কারণ এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের শত শত কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম—যার সঠিক অবস্থান, পরিমাণ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএর পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হয়নি।
ইউরেনিয়ামের মজুত কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
ইউরেনিয়াম প্রাকৃতিক অবস্থায় সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধিকাংশ জ্বালানির জন্য ইউরেনিয়াম সাধারণত প্রায় ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা হয়। গবেষণা চুল্লি বা বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হতে পারে।
ইরান যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, তা অস্ত্র তৈরির জন্য প্রচলিত প্রায় ৯০ শতাংশ মাত্রার নিচে। কিন্তু প্রযুক্তিগতভাবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক মধ্যবর্তী স্তর—কারণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছাতে যে বিপুল পরিমাণ বিচ্ছিন্নকরণ কাজ প্রয়োজন, সেখান থেকে অস্ত্রোপযোগী মাত্রায় যেতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম অতিরিক্ত কাজ লাগে।
আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হামলার আগে ইরানের কাছে প্রায় ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম ছিল, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। আইএইএর প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী আরও সমৃদ্ধ করা গেলে এই পরিমাণ উপাদান একাধিক পারমাণবিক অস্ত্রের উপযোগী বিভাজ্য পদার্থ তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে ইউরেনিয়ামের মজুত থাকা আর কার্যকর পারমাণবিক বোমা নির্মাণ এক বিষয় নয়; অস্ত্র নকশা, ধাতব রূপান্তর, বিস্ফোরণব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্রে সংযুক্তকরণ এবং পরীক্ষা—প্রতিটি আলাদা ও জটিল ধাপ। (Reuters)
আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, মজুতের একটি বড় অংশ ইসফাহানের ভূগর্ভস্থ টানেল কমপ্লেক্সে রয়ে থাকতে পারে এবং কিছু উপাদান নাতাঞ্জ এলাকাতেও থাকতে পারে। কিন্তু পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার না থাকায় সঠিক পরিমাণ ও অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন। (Reuters)
এ অনিশ্চয়তাই ওয়াশিংটনের উদ্বেগের মূল। কারণ কোনো রাষ্ট্রের ঘোষিত ও আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত পারমাণবিক উপাদান যতক্ষণ সিল, ক্যামেরা ও পরিদর্শনের আওতায় থাকে, ততক্ষণ তার গতিবিধি সম্পর্কে একটি ন্যূনতম নিশ্চয়তা থাকে। যুদ্ধের মধ্যে সেই নজরদারি ভেঙে পড়লে একই উপাদান রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচি, গোপন স্থাপনা অথবা চোরাচালান নেটওয়ার্ক—যেকোনো ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠতে পারে।
ফোরদো: পাহাড়ের পেটের ভেতর এক দুর্গ
ফোরদো ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর একটি। কোম শহরের কাছে পাহাড়ের গভীরে নির্মিত এ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার প্রধান স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ছিল। আইএইএও ফোরদোকে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে। (IAEA)
পাহাড়, কংক্রিট, নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুড়ঙ্গের কারণে এটিকে কেবল বিমান হামলায় সম্পূর্ণ অকার্যকর করা কঠিন। কোনো বিশেষ বাহিনীকে সেখানে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রবেশপথ, যোগাযোগব্যবস্থা, বিস্ফোরক ফাঁদ এবং স্থল প্রতিরোধ মোকাবিলা করতে হবে।
তারপরও মূল কাজ শুরু হবে না। ইউরেনিয়াম কী অবস্থায় আছে—গ্যাস, পাউডার, ধাতব যৌগ, নাকি বিশেষ সিলিন্ডারে সংরক্ষিত—সেটি শনাক্ত করতে হবে। প্রতিটি পাত্রে বিকিরণ ও দূষণ পরীক্ষা, নমুনা যাচাই, ওজন নির্ধারণ, সিল করা এবং নিরাপদ পরিবহন দরকার হবে। ভুলভাবে পরিচালিত হলে রাসায়নিক বিষক্রিয়া, তেজস্ক্রিয় দূষণ অথবা অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
অর্থাৎ, এটি শুধু কমান্ডো অভিযান নয়; একই সঙ্গে পারমাণবিক ফরেনসিকস, বিপজ্জনক পদার্থ ব্যবস্থাপনা, প্রকৌশল, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ এবং ভারী পরিবহনের অভিযান।
ইসফাহান: ইউরেনিয়ামের সম্ভাব্য গুদাম
ইসফাহান নিউক্লিয়ার টেকনোলজি সেন্টার ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে ইউরেনিয়াম রূপান্তর, জ্বালানি উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার অবকাঠামো রয়েছে।
সাম্প্রতিক আইএইএ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ ইসফাহানের টানেল কমপ্লেক্সে থাকতে পারে। আইএইএ বর্তমানে সেই উপাদানের পরিমাণ, রাসায়নিক অবস্থা এবং অবস্থান পুরোপুরি যাচাই করতে পারছে না। (ISIS)
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় কিছু স্থানে মাইন, বিস্ফোরক ও প্রতিরোধব্যবস্থা বসিয়ে থাকতে পারে। এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তবে সামরিক বাস্তবতায় ইরান নিজের সবচেয়ে মূল্যবান কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় প্রবেশপথ ধ্বংস, সুড়ঙ্গ বন্ধ, রাসায়নিক দূষণ ঘটানো অথবা উপাদান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখবে—এ অনুমান অস্বাভাবিক নয়। (New York Post)
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: অজানা পাহাড়ের নতুন রহস্য
নাতাঞ্জের কাছে নির্মিত ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ স্থাপনাটি সাম্প্রতিক সময়ে নতুন উদ্বেগের কেন্দ্রে এসেছে। পাহাড়টির স্থানীয় নাম কুহ-ই কোলাং গাজ লা। স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, স্থাপনাটি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত গভীরে নির্মিত হতে পারে এবং এতে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ, একাধিক প্রবেশপথ ও বিশাল ভূগর্ভস্থ স্থান রয়েছে। (AP News)
আইএইএ এখনো স্থাপনাটি পরিদর্শন করেনি। ফলে সেখানে সেন্ট্রিফিউজ, ইউরেনিয়াম অথবা কেবল যন্ত্রপাতি আছে—তা নিশ্চিত নয়। ইরান বলতে পারে, হামলা থেকে বেসামরিক প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতেই গভীর ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। পশ্চিমা ও ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা পাল্টা বলতে পারেন, পরিদর্শনের বাইরে এমন স্থাপনা ভবিষ্যতে গোপন সমৃদ্ধকরণের সুযোগ তৈরি করে।
এই দ্বন্দ্বই পুরো সংকটের প্রতিচ্ছবি: ইরানের কাছে ভূগর্ভস্থকরণ আত্মরক্ষার ব্যবস্থা; যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একই কাজ গোপন অস্ত্রায়নের সম্ভাব্য প্রস্তুতি।
হাজারো সেনা কেন প্রয়োজন হতে পারে
একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযানের জনপ্রিয় ধারণায় কয়েক ডজন কমান্ডো রাতের অন্ধকারে গিয়ে লক্ষ্যবস্তু উদ্ধার করে ফিরে আসে। কিন্তু শত শত কিলোগ্রাম পারমাণবিক পদার্থ একটি বিদেশি দেশের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে সরানো সেই ধরনের অভিযান নয়।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে সামরিক বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য মিশনে বিশেষ বাহিনী, আর্মি রেঞ্জার, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল, পারমাণবিক উপাদান বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং হাজারো সহায়ক সেনার প্রয়োজন হতে পারে। আকাশসীমা ও প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, আহতদের সরিয়ে নেওয়া, উপাদান বহন এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণ ঠেকানো—প্রতিটি ধাপের জন্য পৃথক বাহিনী লাগবে। (New York Post)
অভিযানকারীদের সম্ভবত যা করতে হবে:
প্রথমে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ও নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটি দমন করা; তারপর প্রবেশপথ দখল ও বিস্ফোরক ফাঁদ নিষ্ক্রিয় করা; সুড়ঙ্গের কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা; পারমাণবিক পদার্থ শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করা; উপাদান পরিবহনের জন্য বিশেষ সুরক্ষিত কন্টেইনার ব্যবহার করা; এবং পুরো সময় একটি নিরাপদ আকাশ ও স্থল করিডর বজায় রাখা।
সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন হলো—ইরান যদি অভিযান শুরুর আগেই ইউরেনিয়াম ছোট ছোট চালানে বিভক্ত করে অজানা স্থানে সরিয়ে নেয়, তাহলে বিপুল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে কি?
সমর্থকদের যুক্তি: ‘হারিয়ে যাওয়ার আগেই উপাদান নিরাপদ করতে হবে’
সম্ভাব্য অভিযানের সমর্থকেরা তিনটি প্রধান যুক্তি দিতে পারেন।
প্রথমত, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কয়েক শ কিলোগ্রাম যদি আন্তর্জাতিক নজরদারির বাইরে থাকে, সেটি গুরুতর বিস্তারঝুঁকি। কোনো ভবিষ্যৎ অস্ত্র কর্মসূচির জন্য এটি সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ প্রাথমিক ধাপের বড় অংশ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করে রেখেছে।
দ্বিতীয়ত, কেবল স্থাপনা বোমা মেরে ধ্বংস করলেই ইউরেনিয়াম ধ্বংস হয় না। গভীর সুড়ঙ্গ, ধ্বংসস্তূপ বা অজ্ঞাত গুদামে উপাদানটি টিকে থাকতে পারে। বরং হামলার পর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন বন্ধ হলে তার অবস্থান আরও অস্পষ্ট হতে পারে।
তৃতীয়ত, ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত না নিলেও যুদ্ধ, সরকার পরিবর্তন অথবা রাষ্ট্রীয় বিশৃঙ্খলার মধ্যে উপাদানটি অনিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থকেরা বলবেন, লক্ষ্য ইরানের ভূখণ্ড দখল নয়; এমন একটি পদার্থকে নিরাপদ করা, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক বিপর্যয়ের উৎস হতে পারে।
সমালোচকদের প্রশ্ন: ঝুঁকি কমাতে গিয়ে কি আরও বড় ঝুঁকি তৈরি হবে?
সমালোচকেরা পাল্টা বলবেন, ইতিহাসে এমন বহু সামরিক অভিযান রয়েছে যেখানে সীমিত উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু হলেও তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক হাজার বিদেশি সেনা প্রবেশ করলে তেহরান সেটিকে সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখবে। তখন ইরানের নিয়মিত বাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড, ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট এবং আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জাহাজ, মিত্ররাষ্ট্র কিংবা জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে পারে।
এমন অভিযান ইরানি নেতৃত্বের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির রাজনৈতিক যুক্তিও শক্তিশালী করতে পারে। তারা বলতে পারে, আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইএইএ নয়, কেবল পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতাই বিদেশি আক্রমণ ঠেকাতে পারে। অর্থাৎ যে অভিযান অস্ত্র বিস্তার বন্ধ করতে চালানো হবে, সেটিই দীর্ঘমেয়াদে ইরানের অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে পারে।
আরেকটি সমস্যা প্রমাণের। অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রত্যাশিত পরিমাণ ইউরেনিয়াম না পায়, তখন প্রশ্ন উঠবে—গোয়েন্দা তথ্য ভুল ছিল, নাকি উপাদান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল? ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিজ্ঞতার পর এমন প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক ও ঐতিহাসিক।
আন্তর্জাতিক আইনের কঠিন দেয়াল
জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি হলো—কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে পারবে না। ব্যতিক্রম সাধারণত দুটি: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন অথবা সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা। জাতিসংঘ সনদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ভিত্তিমূল নথি। (United Nations)
যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত একটি আসন্ন পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি তৈরি করছে, তাহলে তাকে ‘অবিলম্বে আসন্ন’ হুমকির শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে। শুধু ভবিষ্যতে অস্ত্র তৈরি হতে পারে—এ আশঙ্কা আন্তর্জাতিক আইনে আগাম সামরিক অভিযান বৈধ করার জন্য যথেষ্ট কি না, তা অত্যন্ত বিতর্কিত।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য। এনপিটি সদস্য হিসেবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ইরান দাবি করে; একই সঙ্গে আইএইএ safeguards বা যাচাইব্যবস্থার অধীন থাকার বাধ্যবাধকতাও তার রয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও এই দ্বৈত বাস্তবতার কথা এসেছে—সমৃদ্ধকরণ নিজে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না। (Reuters)
ফলে আইনি প্রশ্নটি শুধু “ইরানের ইউরেনিয়াম আছে কি না” নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র কী প্রমাণ করতে পারবে যে তাৎক্ষণিক সামরিক হুমকি ঠেকাতে শক্তি প্রয়োগ ছাড়া আর কোনো বাস্তব পথ ছিল না।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও যুদ্ধের অনুমোদন
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের, কিন্তু প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ। গত কয়েক দশকে এ দুই ক্ষমতার সীমা নিয়ে ধারাবাহিক বিরোধ দেখা গেছে।
স্বল্পমেয়াদি বিশেষ অভিযানকে হোয়াইট হাউস সীমিত প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। কিন্তু কয়েক হাজার সেনা, দীর্ঘস্থায়ী আকাশ অভিযান এবং ইরানের ভূখণ্ডে স্থাপনা দখলের মতো মিশন কার্যত বড় যুদ্ধের পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তখন কংগ্রেসের অনুমোদন, অর্থায়ন এবং যুদ্ধক্ষমতা আইনের প্রশ্ন সামনে আসবে।
বিশেষত চলমান সংঘাতের ব্যয়, মার্কিন সেনা হতাহত এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশটির ভেতরে অসন্তোষ বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন বৃহৎ স্থল অভিযান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের ব্যয়, প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছে। (Reuters)
কূটনীতির পথ কি এখনো খোলা?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো, ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে সামরিক বিকল্পের পাশাপাশি কূটনৈতিক বিকল্পও আলোচনায় রয়েছে।
রয়টার্সের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ তৃতীয় দেশে পাঠানো, কম মাত্রার ইউরেনিয়ামের সঙ্গে বিনিময় অথবা দেশের ভেতরে আইএইএর তত্ত্বাবধানে মজুত পাতলা করার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে। তবে ইরানি কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, পুরো মজুত বিদেশে পাঠাতে তারা সম্মত হয়নি। (Reuters)
জুনের একটি খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে নতুন সমৃদ্ধকরণ ও স্থাপনা সম্প্রসারণ থেকে বিরত রাখা এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির অধীনে মজুত পাতলা করার সুযোগ রাখার কথা উঠে আসে। অন্য একটি আলোচনায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা সরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিদর্শনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল। (Reuters)
এখানেই সামরিক ও কূটনৈতিক পথের মৌলিক পার্থক্য। সামরিক অভিযান হয়তো কিছু ইউরেনিয়াম দখল করতে পারবে, কিন্তু জ্ঞান, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি দখল করতে পারবে না। ধ্বংস হওয়া সেন্ট্রিফিউজ পুনর্নির্মাণ করা যায়; প্রশিক্ষিত বিজ্ঞানীর দক্ষতা বোমা মেরে মুছে ফেলা যায় না।
অন্যদিকে একটি শক্তিশালী যাচাইযোগ্য চুক্তি—যেখানে মজুত কমানো, সেন্ট্রিফিউজ সীমিত করা, আকস্মিক পরিদর্শন এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ধাপ থাকবে—সমস্যাটিকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু তার জন্য উভয় পক্ষকেই এমন ছাড় দিতে হবে, যা এখন পর্যন্ত তারা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করেছে।
বইয়ের আয়নায় সংকট: নিরাপত্তার সন্ধানেই জন্ম নেয় অনিরাপত্তা
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিখ্যাত ধারণা ‘সিকিউরিটি ডিলেমা’ আমাদের এ সংকট বোঝাতে সাহায্য করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট জার্ভিস তাঁর Perception and Misperception in International Politics গ্রন্থে দেখিয়েছেন, একটি রাষ্ট্র নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য যে ব্যবস্থা নেয়, প্রতিপক্ষ সেটিকেই আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখতে পারে।
ইরান বলে, গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থেকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে রক্ষা করতে। যুক্তরাষ্ট্র বলে, একই গভীরতা ও গোপনীয়তা প্রমাণ করে ইরান এমন সক্ষমতা তৈরি করছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকে এড়িয়ে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
ওয়াশিংটন তাই হামলার প্রস্তুতি নেয়; তেহরান আরও গভীরে যায়। তেহরান আরও গভীরে গেলে ওয়াশিংটনের সন্দেহ বাড়ে। এভাবেই দুই পক্ষ নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে একে অন্যের কাছে আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
গ্রাহাম অ্যালিসনের Essence of Decision বইয়ের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট বিশ্লেষণও প্রাসঙ্গিক। অ্যালিসন দেখিয়েছেন, রাষ্ট্র সব সময় একক যুক্তিবাদী সত্তা হিসেবে সিদ্ধান্ত নেয় না; সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আলাদা স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাস সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
ইরান প্রশ্নেও তাই “যুক্তরাষ্ট্র কী চায়”—এর একক উত্তর নাও থাকতে পারে। কূটনীতিকেরা যাচাইযোগ্য চুক্তি চাইতে পারেন, সামরিক পরিকল্পনাবিদেরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিতে পারেন, আর রাজনৈতিক নেতৃত্ব উভয় বিকল্পকে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
দ্বৈত মানদণ্ডের বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে আরেকটি কঠিন প্রশ্ন উঠেছে সৌদি আরবের সঙ্গে সাম্প্রতিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির পর। রয়টার্স জানিয়েছে, ওই চুক্তিতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আইএইএর অতিরিক্ত প্রটোকল স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, ইরানের ক্ষেত্রে শূন্য সমৃদ্ধকরণ দাবি করে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হলে ওয়াশিংটনের বিস্তাররোধ নীতির নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। (Reuters)
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকেরা বলবেন, সৌদি আরব ও ইরানের আন্তর্জাতিক আচরণ, নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং যাচাইব্যবস্থার ইতিহাস এক নয়। কিন্তু বিস্তাররোধের নিয়ম যদি মিত্র ও প্রতিপক্ষের জন্য আলাদা বলে মনে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য রাষ্ট্রকে সেই নিয়ম মানাতে কূটনৈতিকভাবে আরও কঠিন হবে।
শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে পারে
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী চারটি সম্ভাব্য পথ সামনে রয়েছে।
প্রথমত, সামরিক পরিকল্পনার খবরটি ইরানকে কূটনৈতিক ছাড় দিতে বাধ্য করার মনস্তাত্ত্বিক চাপ হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত বিমান হামলা বা প্রবেশপথ ধ্বংসের পথ নিতে পারে, পূর্ণ উদ্ধার অভিযান নয়। তৃতীয়ত, আইএইএর তত্ত্বাবধানে মজুতের একটি অংশ পাতলা করা বা তৃতীয় দেশে পাঠানোর সমঝোতা হতে পারে। চতুর্থত, উভয় পক্ষ অনড় থাকলে মজুত অজ্ঞাত স্থানে থেকে যাবে এবং পর্যায়ক্রমে আরও সামরিক সংঘাতের কারণ হবে।
২৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিকে তুলনামূলকভাবে বুদ্ধিমান পথ হিসেবে দেখছেন বলে Axios জানিয়েছে। তবে তিনি আরও বড় হামলার বিকল্পও খোলা রেখেছেন। এটি প্রমাণ করে, কূটনীতি ও সামরিক চাপ এখন সমান্তরালভাবে চলছে। (Axios)
সম্পাদকীয় মূল্যায়ন: যে মিশনে জয়ও পরাজয়ের মতো হতে পারে
ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার একটি বাস্তব ও গুরুতর উদ্বেগ। আইএইএর পূর্ণ প্রবেশাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মজুতের সঠিক হিসাব, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং যাচাইযোগ্যভাবে উপাদান পাতলা বা স্থানান্তর করা জরুরি।
কিন্তু উদ্বেগ বাস্তব হলেই প্রতিটি সামরিক সমাধান বুদ্ধিমান হয়ে যায় না।
ইরানের পাহাড়ি স্থাপনায় ঢুকে ইউরেনিয়াম দখল করা প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নাও হতে পারে। একটি সফল অভিযানে কিছু পারমাণবিক পদার্থ উদ্ধার হতে পারে; একই সঙ্গে শুরু হতে পারে দীর্ঘ যুদ্ধ, আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানি সংকট, নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা এবং ইরানি সমাজে আরও কঠোরপন্থার উত্থান।
এ কারণে সর্বোত্তম পথ হলো শক্তিশালী কূটনীতি—কিন্তু নিছক বিশ্বাসের ওপর নয়। পূর্ণ আইএইএ প্রবেশাধিকার, সিল ও ক্যামেরা পুনঃস্থাপন, ঘোষিত ও অঘোষিত স্থাপনায় যাচাই, ৬০ শতাংশের মজুত নিয়ন্ত্রিতভাবে পাতলা করা, ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিশ্বের ইতিহাস বলে, পারমাণবিক সংকটে সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তটি সব সময় বোমা বিস্ফোরণের মুহূর্ত নয়। কখনো কখনো সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হলো সেই সময়, যখন দুই পক্ষই বিশ্বাস করতে শুরু করে—আর কোনো পথ খোলা নেই।
ইরানের পাহাড়ের ভেতর কত ইউরেনিয়াম আছে, তা হয়তো একদিন জানা যাবে। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: সেই ইউরেনিয়ামের সন্ধানে পৃথিবী কি এমন একটি যুদ্ধের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করবে, যেখান থেকে বের হওয়ার পথ কেউ আগে থেকে জানে না?
#IranNuclearCrisis #USIran #Fordow #IAEA #MiddleEast #NuclearSecurity #Geopolitics #ক্যালিফোর্নিয়ারচিঠি




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।