ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের বড় সমর্থন: TPS বাতিল ও সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ‘মিটারিং’ নীতির পথ খুলল

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের বড় সমর্থন: TPS বাতিল ও সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ‘মিটারিং’ নীতির পথ খুলল
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে একদিনেই বড় ধরনের আইনি মোড় তৈরি করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত ৬–৩ ভোটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা TPS বাতিলের পথ খুলে দিয়েছে এবং সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ সীমিত করার বিতর্কিত ‘মিটারিং’ নীতি পুনরায় চালুর আইনি সুযোগ তৈরি করেছে। (Supreme Court)
TPS কর্মসূচির আওতায় যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গভীর রাজনৈতিক সংকটে থাকা দেশের নাগরিকরা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের ফলে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং কয়েক হাজার সিরীয় নাগরিক এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়তে পারেন। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে, এই রায় শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; এটি বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবার, কর্মী ও কমিউনিটির ওপর বড় মানবিক চাপ তৈরি করবে। (Axios)
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, TPS কখনোই স্থায়ী বসবাসের পথ নয়; এটি ছিল সাময়িক সুরক্ষা। হোয়াইট হাউসের সমর্থকরা এই রায়কে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসন ব্যবস্থায় নির্বাহী ক্ষমতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ACLU, American Immigration Councilসহ অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আদালতের সিদ্ধান্ত লাখো মানুষকে হঠাৎ করে কর্মসংস্থান, পরিবার ও নিরাপত্তার অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেবে। (American Immigration Council)
একই দিনে সুপ্রিম কোর্ট আশ্রয়প্রার্থীদের সীমান্তে অপেক্ষা করানোর ‘মিটারিং’ নীতি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। এই নীতির মাধ্যমে সীমান্তবন্দরে প্রতিদিন কতজন আশ্রয়প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন তা সীমিত করা যায়। নীতিটি ২০২১ সালে প্রত্যাহার হলেও আদালতের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রশাসন চাইলে তা পুনরায় ব্যবহার করার আইনি পথ সহজ করতে পারে। (American Immigration Council)
বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন ভিন্নমত দিয়ে বলেন, যে নীতি বর্তমানে কার্যকর নেই, সেটি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল না। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মত বলছে, সীমান্ত পরিচালনা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ক্ষমতা আদালতের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ছাড়া প্রয়োগযোগ্য হওয়া উচিত।
এখন সবচেয়ে বেশি নজর জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলার দিকে। Trump v. Barbara মামলায় প্রশ্ন হলো—যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু কি ১৪তম সংশোধনীর অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে, যদি তার বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িক ভিসায় দেশে থাকেন? AP-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৪তম সংশোধনী ১৮৬৮ সালে গৃহীত হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। (AP News)
এই মামলার রায় জুলাইয়ের শুরুতে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের চলতি মেয়াদের শেষ গুরুত্বপূর্ণ রায়গুলোর মধ্যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলা অন্যতম বলে Reuters জানিয়েছে। (Reuters)
এদিকে অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কঠোর পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নিম্ন আদালতে ধাক্কা খেয়েছে। গত ৫ জুন রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালত USCIS-এর কয়েকটি আবেদন স্থগিত নীতি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে। ওই রায়ে বলা হয়, শুধু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে বৈধ অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে রাখা আইনসঙ্গত নয়। (USCIS)
অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, TPS, asylum metering, public charge, visa hold এবং birthright citizenship—এসব প্রশ্ন এখন আর আলাদা আলাদা নীতি নয়; এগুলো মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকদের মতে, এগুলো সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ। সমালোচকদের মতে, এটি দীর্ঘদিনের অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য ভয়, অনিশ্চয়তা ও বিচ্ছিন্নতার নতুন অধ্যায়।
সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রশ্ন একটাই—জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব মামলার রায় কি এই পরিবর্তনকে আরও গভীর করবে, নাকি সংবিধানের পুরোনো ব্যাখ্যাকেই বহাল রাখবে?
#USImmigration #SupremeCourt #TrumpAdministration #TPS #AsylumPolicy #BirthrightCitizenship #AmericaNews #BanglaNews #WeeklyCalifornierChithi #TheUSAPage




এখনও কোনো মন্তব্য নেই। আলোচনাটি শুরু করুন।